মরে যাওয়ার এই ঘটনাগুলোয় মিল আছে জানি কেমন ———-
এম্পেদোক্লেস। গ্রীক। যতোদুর জানা যায়, সে প্রথম আত্মহত্যা করা মানুষ। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩৪ খ্রিস্টাব্দে । সুইসাইড নোটে লিখেছিল, ‘ জীবন একটা ফাঁদ। বুড়ো হয়ে মরার জন্য অপেক্ষা করাই জীবনের আসল উদ্দেশ্য। তাই বিদায় নিলাম।’ তিনি মারা যাওয়ার আগে সবাইকে বলেছিলেন, ‘চল মরে যাই।’
১৫০৭ সাল। জুরিখের এক তরুণ তার বাবাকে বলল,এই যে বিছানায় তুমি ৯০ বছর বয়সে কাতরাচ্ছ। মৃত্যুর প্রহর গুনছ। নিজের জীবন এতো ভারবাহী তবু সুইসাইড করছ না কেন?
বাবা উত্তর দেন, পাপ হবে। ভীরুরা ওই কাজ করে।
এর চল্লিশ বছর পর সেই তরুণ সুইসাইড করে। সুইসাইড নোটে লিখেছিল, জীবন যখন নিরর্থক তখন সাহসীরাই সুইসাইড করে। চল মরি যার যার দরকারে।
এর বহুবছর পর আলবেয়ার কামু এ নিয়ে আলাপ তুলেন।
মজার ঘটনা সুইজারল্যান্ডে সুইসাইড করার যে রাইট দেওয়া হয়েছে এই অধিকার আদায়ে আন্দোলনকারীদের একজন সেই তরুণের বংশ পরম্পরায় নাতি। নাম ডানিয়েল সুটার। রাজনীতিবিদ। গুগলে সার্চ দিলে পাবেন। তিনিও গত বছর জানান, মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুইসাইডের।
সুইজারল্যান্ডের ডিগনিটাস নামের এক সংস্থা সাহায্য করে মানুষকে আত্মহত্যা করতে ৷
জুরিখ লেকের গভীরে অসংখ্য ভস্মাধার খুঁজে পাওয়ার পর ডিগনিটাস’এর ঘাড়ে তার দোষ পড়েছে ৷ বলা প্রয়োজন, সুইজারল্যান্ডে আত্মহত্যা করার স্বপক্ষে বেশ কিছু আইন রয়েছে, তবে সেই আইনে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে যে আর্থিক সুবিধা আদায়ের জন্য কখনোই কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া যাবে না৷ আমাদের দেশে এটা ফৌজদারি অপরাধ।
ডিগনিটাসের মালিকদের অন্যতম লুডভিশ মিনেলজ গত বছর এক ইন্টারভিউতে বলেন, ২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিন তরুন ও দুই তরুণী একসাথে এসেছিল। তারা দীর্ঘদিন থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তাই মৃত্যু চায়। তাদের হাতের প্লেকার্ড এ লেখা ছিল, ‘ চল মরে যাই’। কিন্তু কোন ভালো চিকিৎসকের আওতায় চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থাপ্ত্র না থাকায় আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি।
কলকাতার এক মুভির নাম,হেমলক সোসাইটি। এ মুভিতে দেখানো হয়, সুইসাইড যারা করতে চায় তাদের সুইসাইড করার কথা বলেই এ সোসাইটির সদস্য করে ধীরে ধীরে কিভাবে জীবনের প্রতি ফের প্রেম জন্মানো হয়।
ছবিটির ইংরেজি ভারসন করায় আগ্রহী প্রথমে ডানিয়েল সুটার ছিলেন, পরে পিছিয়ে যান।
আর হেমলক সোসাইটি মুভির সাথে ক্যামেরার কাজে সহকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন অনীশ দীক্ষিত। তিনিও সুইসাইড করেন এই লেখে ‘চলো মরে যাই’।
এই কয়েকশো বছরের ঘটনা ও কিছু অদ্ভুত মিলকে কি বলা যায়?
[লেখাটি লেখকের অনুমতিক্রমে ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া]