আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যে নিজস্ব ঢং ও জীবনঘনিষ্ঠ লেখালিখির মাধ্যমে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন লেখক ওয়াদুদ খান। ইংরেজি সাহিত্যে এমএ সম্পন্ন করা এই সাহিত্যিক বর্তমানে ফরিদপুরের সদরপুর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানাধীন কাউলজানী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা প্রয়াত শাজাহান খান ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি কোনো প্রতিদানের আশা না করে ইচ্ছাকৃতভাবেই কখনো মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করেননি। তাঁর মা আজিজা খানম একজন গৃহিণী। অর্ধাঙ্গিনী নূর-এ ফাহমি এবং একমাত্র পুত্র শাহ জাবির খান হুরাইরাকে নিয়ে তাঁর সুখী পারিবারিক জীবন।
কথাসাহিত্য, রম্য রচনা ও কবিতায় স্বচ্ছন্দ বিচরণ করা এই লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘ফ্যান্টাসি’ পাঠকমহলে অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দেয়, যার মূল চরিত্র জয় ও জেনির নিখাদ প্রেম আজও পাঠক মনে রেখে দিয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর ‘সবই কি মিথ্যা ছিল?’ উপন্যাসটি পাঠকের হৃদয় আপ্লুত করে এবং ‘কষ্টকথা সাফল্যগাথা’ উপন্যাসে ফুটে ওঠে বাস্তব জীবনের অনবদ্য চিত্র।
ওয়াদুদ খানের দিবসে বৃষ্টির ছোঁয়া উপন্যাসটি নির্ভেজাল প্রেম ও হাস্যরসের এক দারুণ সংমিশ্রণ। গল্পের মূল চরিত্র চঞ্চল ও কবিভাবাপন্ন তরুণ দিবস, যার পাগলামিকে মনে মনে বড্ড ভালোবাসে বৃষ্টি। কিন্তু মনের গভীরের অনুরাগের কথা দিবসকে বলা হয়ে ওঠে না বৃষ্টির। এরই মাঝে হঠাৎ একদিন খবর আসে দিবস পুলিশে গ্রেপ্তার হয়েছে। দিশেহারা বৃষ্টি খোঁজ নিতে গিয়ে দেখে অদ্ভুত এক দৃশ্য—পুলিশের কাঁধে বসে আয়েশ করে লাল চা খাচ্ছে দুরন্ত দিবস।
হাস্যরসে টইটম্বুর এই কাহিনীর আড়ালে লেখক অত্যন্ত সুকৌশলে বর্তমান সমাজের অদ্ভুত হালচাল এবং তথাকথিত ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীদের রীতিনীতিকে সমালোচনা করেছেন। সহজ ও গতিশীল ভাষার এই বইটি প্রচ্ছদ করেছেন মাহী মজুমদার।