মোস্তফা সোহেলের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সাদা মেঘে ওড়াই মৌনতা’। বইটির চমৎকার নাম ও সুখপাঠ্য কবিতাগুলোর প্রশংসা করে কবিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ। সে কথা ফ্ল্যাপে বিবৃত হয়েছে।
শুধুমাত্র কথা সাহিত্যেই নয়, কবিতার রূপকল্প নির্মাণেও সমভাবে সিদ্ধহস্ত মোস্তফা সোহেল। ১৯৬৭ সালের ১২ জানুয়ারি যশোর শহরে জন্মগ্রহণকারী এই লেখকের শিক্ষাজীবন সমৃদ্ধ উচ্চশিক্ষায়; তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ডেনমার্কের ওডেন্স-এর নরডিক এগ্রিকালচার একাডেমি থেকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে ফেলোশিপ লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’-র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। কর্মসূত্রে ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর বহু দেশ।
দৈনিক প্রথম আলোর বন্ধুসভা ছাড়াও ভোরের কাগজের পাঠক ফোরাম-মেলা, দৈনিক দেশ, আজকের কাগজ ও যায় যায় দিন-এ নিয়মিত লেখার মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যচর্চার ভিত শক্ত হয়। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেবো’ এবং ২০১০ সালে আসে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘নিঃসঙ্গ টারমিনাল’। কবিতার পাশাপাশি কথাসাহিত্যেও তিনি সমান উজ্জ্বল। ২০১১ সালে পলল প্রকাশনী থেকে তাঁর দুটি উপন্যাস ‘তুমি আমায় প্রথম ছুঁয়েছিলে’ ও ‘ভালোবাসার এক রূপালি রাত’ প্রকাশিত হয়। ২০১২ সালে জনান্তিক প্রকাশনী থেকে বাজারে আসে উপন্যাস ‘আনন্দবাড়ি’ ও ‘বুনো জ্যোৎস্নায়’।
পরবর্তী সময়ে বিজয় প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসগুলো—২০১৩ সালে ‘মুখোশ’, ২০১৪ সালে ‘নেতা’ এবং ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস ‘ভালোবাসা ও একটি জলফড়িং’। ২০১৭ সালের বইমেলায় আত্মপ্রকাশ করে তাঁর নতুন উপন্যাস ‘বধূ কোন আলো’ এবং গল্পগ্রন্থ ‘প্রেম পাখি ও জোনাকির গল্প।’ সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ ও ২০১৩ সালে তিনি উপন্যাস বিভাগে লাভ করেন সম্মানজনক ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার’। তাঁর সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাদা মেঘে ওড়াই মৌনতা’ পাঠকদের কাব্যরস আস্বাদনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।