বিশ্বাসের দোলাচল এবং সম্পর্কের নিবিড় মানসিক দ্বন্দ্বে ঘেরা এক আবেগঘন গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে গ্রন্থটি। উপন্যাসটির নন্দনকানন প্রচ্ছদ এঁকেছেন মাহী মজুমদার।
উপন্যাসের কাহিনিসংক্ষেপ ও প্রেক্ষাপট
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অরণ্য ও নবনীর ভালোবাসার সংসারকে কেন্দ্র করে কাহিনির সূচনা। তবে সুখের এই সংসারে একসময় দানা বাঁধে সন্দেহ ও বিশ্বাসের ঘাটতি। অরণ্যের ভালোবাসার গভীরতা পরীক্ষা করতে একটি মিথ্যা ঘটনার আশ্রয় নিয়ে ঘর ছেড়ে সেপারেশনে চলে যায় নবনী। অরণ্য দীর্ঘ এক বছর প্রতি মুহূর্ত অপেক্ষা করে নবনীর ফিরে আসার আশায়।
অন্যদিকে, কাহিনির নতুন মোড়ে হাজির হয় নবনীর বিদেশি সহকর্মী ফিলিপ, যে নবনীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে। নবনীও নিজের জীবনে নতুন ঠিকানা আবিষ্কারের চেষ্টা করে। একই সময়ে অরণ্যের মা ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে শুরু করেন। বিচ্ছেদ, অপেক্ষা এবং তৃতীয় ব্যক্তির আগমন মিলিয়ে এক ঘটনাবহুল নাটకీయতার মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়ে চলে। আধুনিক যুগের দম্পতিদের জটিল মানসিক অবস্থা এবং ভালোবাসার ভঙ্গুরতার এক জীবনঘনিষ্ঠ রূপচিত্র এতে ফুটে উঠেছে।
উপন্যাসটির লেখক মোস্তফা সোহেল দেশের অন্যতম একজন গদ্যকার। তাঁর গদ্যে প্রেম, প্রকৃতি ও নারীর অনুভূতিমালা নিখুঁত শব্দচয়নে উঠে আসে।
লেখক ১২ জানুয়ারি যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর (LL.M) অর্জন ছাড়াও ডেনমার্কের কডেন্সের ‘নরডিক এগ্রিকালচার একাডেমি’ থেকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে ফেলোশিপ পেয়েছেন।
দৈনিক প্রথম আলোর ‘বন্ধুসভা’ এবং যশোরের ‘দৈনিক ঠিকানা’ পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর লেখালেখির সূচনা। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেব’। তাঁর সর্বাধিক বিক্রিত ও আলোচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসা ও একটি জলফড়িং’, ‘তুমি আমায় প্রথম ছুঁয়েছিলে’, ‘আনন্দবাড়ি’, ‘আমি কান পেতে রই’ এবং ‘মনপাহাড়’।
সাহিত্যকর্মে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০১২ ও ২০১৩ সালে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার’ লাভ করেন।