‘‘এই বইটির নাম হতে পারতো ‘প্রণয় পূর্ণিমা’। যে কবি এমন নতুন নাজুক শব্দ তৈরি করতে জানে, তার কবিতা-শক্তি নিয়ে আর কিছু সংশয় থাকে না। আবার কবিতাগুলি পড়তে শুরু করলে মনে হবে- তাই তো! কীট-পতঙ্গ থেকে সমগ্র জীব-জগত; এমনকি উদ্ভিদও কখনো স্বেচ্ছায় উপবাস করে না, কিন্তু মানুষ করে। তা অভিমানে বা ধর্মীয়, যে কারণেই হোক, করে। যৌনতার উপবাসও যে এক কঠিন ব্রত, সিফাত বিনতে ওয়াহিদের এই বইটির পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় সে কথা একথালা নক্ষত্রের মতো জ্বল জ্বল করছে।
ফ্ল্যাট-বাড়ির দরোজার ছোট্ট কী-হোল দিয়ে তাকালে যেমন বাইরেটা বেশ বড় ও স্পষ্ট দেখা যায়, এ বইয়ের কবিতাগুলো ছোট আকারের হলেও প্রণয়, মৃত্যু ও যৌনতার অফুর আকাশ চোখে পড়বে। অনেকে বলে থাকেন, মৃত্যু-চেতনার অভিব্যক্তিই হলো কবিকে চিনবার প্রধান চাবিকাঠি। আমি একটু এগিয়ে এসে প্রণয় ও যৌনতাকেও এই বৃত্তে নিয়ে আসতে বলবো। কারণ, প্রণয়-যৌনতা ও মৃত্যুই সেই অনন্ত ত্রিধারা, যা এই মর-পৃথিবীর আবহমানের আহ্নিকগতি ও বার্ষিকগতির সঙ্গে বহে আসছে। সিফাতের এই বইয়ের কবিতাগুলি সেই ত্রিধারায় কখনো রোদে পুড়েছে, বৃষ্টিতে ভিজেছে, কখনো না বলার নৈঃশব্দে অদৃশ্যে উপস্থিত থেকে গেছে। তারপর পড়ে থাকে কল্পনা, শুধু কল্পনা আর কল্পনারা…।’’ কথাগুলো বলেছেন ভারতের কলকাতার সুব্রত সরকার।
আর কবি-সাংবাদিক সিফাত বিনতে ওয়াহিদ নিজের লেখা ‘সকল পুণ্যের মাঝে আমি একটাই পাপ’ বই সম্পর্কে বলেছেন, ‘সৃষ্টির জন্য হয়তো তীব্র কোনো যন্ত্রণা লাগে: হৃদয়ে তীব্র কোনো ব্যথা, মস্তিষ্কে তীব্র কোনো আলোড়নও। ধ্বংসের ভেতর থেকে যে সৃষ্টির প্রয়াস পায়, সে-ই তো প্রকৃত স্রষ্টা! যে জীবনে ব্যথা নাই, যে জীবনে হারানোর বেদনা নাই, যে জীবন মখমলের মতো মসৃণ, সে কি করে সৃষ্টির আনন্দ পাবে? সেটা পেতে হলে কতবার মরে জন্মাতে হয়, কত কতবার হোঁচট খেয়ে, রক্তাক্ত হয়েও ওঠে দাঁড়াতে হয় বুক টান টান করে! এজন্যই হয়তো বলা হয়, ‘A good life needs some bad days too.’
এসকল যন্ত্রণা থেকে বরং কিছু কবিতা আসুক হৃদয় আর মস্তিষ্কের বারান্দায়! আমি তো আমার অনুভূতির মতোই কবিতাকে সত্য মনে করি। কবিতা হলো কনস্টেন্ট ট্রুথ। বিশ্বাসীরা যেমন ধর্মগ্রন্থ পড়ার সময় উচ্চারণ করে- ‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে’, আমিও তো জীবনে বহুবার বহু কবিতা পড়ার সময় নিজেকে বলেছি- পড়ো তোমার কবির নামে। কবিতাই আমার কাছে পরম এবং একমাত্র মুক্তি।’
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাংলানামা প্রকাশিত বইটির মুদ্রিত মূল্য ৩০০ টাকা।