গ্রামবাংলার প্রচলিত গল্প আনন্দের ভিন্ন জগৎ

বইকথা স্পেশাল

গ্রাম-বাংলার মাঠে-ঘাটে, হাটে এবং বসতবাড়ির উঠানে একসময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য রূপকথা ও ঐতিহ্যবাহী গল্পের সমাহার। গরমকালে খোলা বারান্দা, বৈঠকঘর কিংবা উঠানে মধ্যরাত পর্যন্ত জমতো গল্প বলার আসর। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ সেখানে অধীর আগ্রহে মশগুল হয়ে গল্প শুনতেন। কেবল রাতের আসরেই নয়, ফসলের মাঠে কাজের বিরতিতেও কৃষক-শ্রমিকেরা নানা মুখরোচক গল্পের ঝাঁপি খুলে বসতেন। গ্রামে গ্রামে জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গানের সুরের পাশাপাশি সমান তালে জমজমাট ছিল গল্প বলার এই সংস্কৃতি।

তবে সময়ের আবর্তে আজকের দিনে চিত্র অনেকটাই বদলেছে। বর্তমানে হাতে হাতে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণের কারণে গ্রাম-বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী গল্পের আসর কিংবা উৎসাহী শ্রোতার আজ বড়ই অভাব। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় লোকজ সংস্কৃতির এই অনন্য উপাদানগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

শৈশব ও কৈশোরে বিভিন্ন আসরে লোকমুখে প্রচলিত এসব গল্প শুনে বড় হয়েছেন আব্দুল হামিদ ভাষা। পরবর্তীতে পরিণত বয়সে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে তাঁর অনুভবে আসে—আবহমান বাংলার এই মুখরোচক গল্পগুলোর একটি স্থায়ী লিখিত রূপ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই তাগিদ থেকেই তিনি তাঁর শোনা গল্পগুলোকে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী পাঠকের উপযোগী করে পুনরায় লিখেছেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফসল ‘গ্রামবাংলার প্রচলিত গল্প’ বইটি। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে। বইটির দৃষ্টিবান্ধব প্রচ্ছদ ও ভেতরের দৃষ্টিনন্দন অলংকরণ করেছেন আল নোমান।

বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোর কিংবা তরুণরা যদি মনোযোগ দিয়ে বইটি পড়ে, তবে তারা নিঃসন্দেহে আনন্দিত হবে। কেবল বিনোদনই নয়, এসব গল্পের মাধ্যমে তারা জানতে পারবে জীবনমুখী নীতিকথা, অতীত ইতিহাসসহ লোকসংস্কৃতির অজানা নানা বিষয়। মানুষের জীবন গঠনে এবং নিজস্ব শিকড়কে চেনার ক্ষেত্রে এসব গল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। কালজয়ী এসব গল্পকে নতুন করে বাঁচিয়ে রাখতে ‘গ্রামবাংলার প্রচলিত গল্প আনন্দমেলা’ বইটির বহুল প্রচার ও পাঠ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *