এক গভীর অনুসন্ধানী চোখ মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের (শাশ্বত মনির)। যে চোখে তিনি দেখেন শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি এমন বৈশ্বিক নানা সঙ্গতি-অসঙ্গতির দৃশ্যপট। সমসাময়িক নানা বিষয়ের মনোবেদনা থেকে শাশ্বত মনির কলম ধরেন। যাপিত জীবনের নানা অসঙ্গতি, অনাচার আর নেতিবাচকতায় তিনি ব্যথিত হন।
শাশ্বত মনির শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন, স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন। কথা বলেন যুদ্ধ-বিগ্রহের বিরুদ্ধেও। তিনি গণতন্ত্রের কথা বলেন, দেশের মানুষের কথা বলেন। আবার বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ যে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তাও তার চিন্তায় বিরাজ করে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করেছে, খাদ্য সংকট, আর্থিক সংকট তৈরি করেছে সে সব নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। তিনি ক্ষুধার্ত ও বিশ্বের অসহায় মানুষের কথা বলেন। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যায় যে দেশের, উপমহাদেশের তথা বিশ্ব রাজনীতির অপার ক্ষতি হলো তাতে ব্যথিত হন। তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলেন।
মোট কথা লেখক ভাবনার আকাশে মেলে ধরেছেন ‘চিন্তার ঘুড়ি’। শাশ্বত মনিরের এই সব চিন্তা কাজে লাগালে উপকৃত হবে সমাজ, উপকৃত হবে রাষ্ট্র। কেননা জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি ও অর্থনীতি, শিক্ষা, কোনোকিছুই বাদ যায়নি এই বইটিতে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আল নোমান। মুদ্রিত মূল্য ৩০০ টাকা।
শাশ্বত মনির : মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (শাশ্বত মনির) লেখালেখিতে অন্তঃপ্রাণ মানুষ। ১৯৭৪ সালে জন্ম শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার জুলগাঁও গ্রামে। বাবা ব্রিটিশ আমলে উচ্চশিক্ষিত, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাওলানা সমছ উদ্দিন সরকার, মা গৃহিণী গুল-এ রায়হান নেছা (উভয়ই পরলোকগত)।
আনন্দ মোহেন কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং মাস্টার্স পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং মাস্টার্স করেছেন শাশ্বত মনির। তিনি আইন বিষয়েও স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর।
গত ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত গুণী এই লেখক। সম্পাদনা করছেন সাপ্তাহিক শীর্ষ খবর ও বিনোদন বাজার নামে দুটি পত্রিকা। এ ছাড়া আইন গবেষক হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে সম্পত্তি বিষয়ক আইনে তার পাণ্ডিত্য অগাধ। তিনি ঢাকা বার এসোসিয়েশন, ঢাকা ট্যাক্সেস বারের সদস্য। শাশ্বত মনির একজন সফল সংগঠকও বটে। মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় বিশ্বাসী এই লেখক একাধিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
চিন্তায় সর্বদা মানুষের কল্যাণবোধ- এই উপলব্ধি থেকে নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন মওলানা সমছ উদ্দিন সরকার স্মৃতি পাঠাগার। বড় ভাইয়ের সঙ্গে মিলে মায়ের নামে গড়ে তুলেছেন গুলে রায়হান নেছা ফাউন্ডেশন ও বাবার নামে কল্যাণ ট্রাস্ট। স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য এবং এক মাত্র কন্যা মুশবা জামান সামাবি।
‘চিন্তার ঘুড়ি’ এটি নিবন্ধ বিষয়ক প্রথম বই।