কবিতা ইতিহাসের কথা বলে, সময়ের কথা বলে। শেষাবধি কবিতা বিজ্ঞাপিত করে দেশ ও জনপদের বিশাল ভূগোলকে। এই বোধেই সংশ্লিষ্ট হয়ে ড. জয়নাল আবেদীন খান তার গবেষণাকর্মটিতে কবিতার নানাদিক সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। নিখুঁত গবেষণা পরিকল্পনায় বিন্যস্ত হয়েছে কবিতার পরিপ্রেক্ষিত ও প্রবণতার আন্তঃসম্পর্কের এপিঠ-ওপিঠ। ‘বাংলাদেশের কবিতা (১৯৭১-১৯৯০): পরিপ্রেক্ষিত ও প্রবণতা’ গ্রন্থে কবিতার দশক বিভাজন, মৌল আলোচনা সন্নিবেশিত আছে। গবেষক দশকগুলের ব্যাপ্তিরেখা ধরে আলোচনা করে কবিতার প্রবণতা ও গন্তব্য খুঁজে দিয়েছেন। আলোচ্য গবেষণায় কবিতার বহুবিচিত্রমুখিতাঃ শারীরিক কবিতা ও আধ্যাত্মিক কবিতা, পরাবাস্তব কবিতা ও বাস্তবধর্মী কবিতা, সমাজধর্মী কবিতা ও আন্তর্জাতিক কবিতার নানা সলুকসন্ধান করেছেন গবেষক। তাই এ গ্রন্থটি হয়েছে কবিতাসংক্রান্ত বিশেষ নিদর্শনধর্মী আলেচনার আধার।
এ গবেষণাকর্মটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলানামা। এটির মুদ্রিত মূল্য ৫৫০ টাকা।
প্রফেসর ড. মো. জয়নাল আবেদীন খান : ১৯৬৬ সালের ১৬ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার নাটশালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ-ইন-এড ও এম এড, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পিএইচ ডি এবং মালয়েশিয়ার Universiti Utara Malaysia থেকে Instructional Technology বিষয়ে স্নাতকোত্তর (M Ed. IT) ডিগ্রি লাভ করেন।
মূলত শিক্ষক প্রশিক্ষণের কর্মকর্তা হলেও তার আগ্রহের বিষয় কবিতা। কবিতা ও কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলা শিখণ গ্রন্থের লেখক (যৌথভাবে) ও সম্পাদক (এককভাবে) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য হিসেবে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ফেনীতে বাংলা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের একটা বড় সময় তিনি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ময়মনসিংহ-এ অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ যশোর-এ অধ্যক্ষ (অধ্যাপক বাংলা) হিসেবে কর্মরত।