ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে গদ্য কথক

বাংলানামার বই স্লাইড

তরুণ গল্পকার সাদিক হাসান ইমনের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘গদ্য কথক’। বইটিতে ৬ টি ভিন্ন ধরনের গল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ‘চোখ’ একটি ভৌতিক রহস্য গল্প। ২৩ বছর পর জমিদার পরিবারে সন্তান জন্ম নেয়। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার সাথে সাথে জমিদার পরিবারের সব সমস্যা ও জটিলতার রহস্য উন্মোচিত হতে থাকে।
‘আকাঙ্ক্ষিত বাংলা’ দেশপ্রেমের গল্প। এক বালক পরিবারের সাথে নিউইয়র্কে থাকে। সবার অগোচরে আস্তে আস্তে আবিষ্কার করে যে সে আসলে একজন বাঙালি এবং অবশেষে ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশেও আসে। বাংলাদেশ ও এর সংস্কৃতি থেকে তাকে দূরে রাখার কারণও জানতে পারে।
বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত চৌধুরী দম্পতির সুখ-দুঃখ নিয়ে গল্প ‘শেষ আশ্রয়’। তাদের কাছে ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকে চিঠি আসে। সেই চিঠিকে কেন্দ্র করে চৌধুরীর ভাবনার বিচক্ষণতা প্রকাশ পায়। চিঠির ভেতরে লুকিয়ে থাকা সত্যটা তিনি বুঝতে পারেন। পরবর্তীতে তাদের জীবনযাপন ও শেষ পরিণতির ভয়াবহতা স্তব্ধ করে আমাদের।
বাকি গল্পগুলোও হৃদয়স্পর্শী ও মানবিক। সাদিক হাসান ইমনের শুরুটাই জানান দিচ্ছে- গল্পগুলো পাঠকের হাতে পৌঁছালে তার মূল্যায়ন অবশ্যম্ভাবী। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মাহী মজুমদার, আর এটি প্রকাশ করেছে বাংলানামা।
সাদিক হাসান ইমন সম্পর্কে একছত্র : জন্ম ১২ ডিসেম্বর। তার বাবা মো. আজাহার আলী একজন ব্যবসায়ী ও মা মোছা, মেহেরুন্নেছা একজন গৃহিণী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানায়।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেসনালস্ (বিইউপি)-তে আইসিটি ডিপার্টমেন্টে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত। তিনি বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং চাঁচৈকড় নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন।
ছোটবেলা থেকেই তার বাংলা সাহিত্যের প্রতি অত্যন্ত ঝোঁক। মন খারাপ থাকলেই তিনি কবিতা লিখতে বসতেন। লেখা হওয়ার সাথে সাথে তার মন ভালো হয়ে যেত। তারপর তিনি কাছের বন্ধুদের দেখাতেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনুপ্রেরণা দিতেন। তার শুরুটা মূলত এভাবেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিজেকে মেলে ধরে সবার নজরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। ২০১৯ সালে ‘ওঙ্কার’ ম্যাগাজিনে তার লেখা কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হলে তিনি বেশ প্রশংসিত হন এবং ভালো সাড়া পান। তারপর বিইউপি’র বার্ষিক ম্যাগাজিন ২০১৯ ‘Cadence’-এ তার লেখা গল্প প্রকাশ পেলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ভবিষ্যতে তিনি গল্প ও কবিতায় আরও মনোনিবেশ করতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *