‘আগুনফুল’ একঝাঁক প্রতীক সমৃদ্ধ সৃষ্টি

বইকথা স্লাইড

সমকাল দুইভাগে ভাগ হয়ে আছে। একগোষ্ঠী ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ভাব-জীবনধারীদের অবলম্বনগ্রন্থগুলোকে বুঝতে না চেয়ে মিথ্যা অভিহিত করে দূরে সরিয়ে রেখে, আরেকগোষ্ঠী ভাব-জীবনধারীরা ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীন আখ্যা দিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে অস্পৃশ্য করে জীবনধারণে। ভাবগ্রন্থগুলো কখনই বিজ্ঞানকে দূরে রেখে রচিত হয়নি; তা সমকালীন বিজ্ঞানকে ধারণ করেই বেড়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিজ্ঞানও ভাবগ্রন্থগুলোকে অগ্রাহ্য করে বেড়ে ওঠেনি, তা ভাবপ্রবর্তকদের স্বর্গীয় কৌতূহলকে অনুসন্ধানে রত থেকেই রচিত হয়েছে। কিন্তু উভয়ের মধ্যে ব্যবধান রচিত করেছে পুরোহিত ও বিজ্ঞানমাতালরা।
তাই শিল্পের উচিত উভয়ের মধ্যে মেলবন্ধন, যার জন্য প্রয়োজন পুনরুত্থান যেমনটি ঘটিয়েছিল রেনেসাঁর শিল্পীরা। ‘আগুনফুল’ একঝাঁক প্রতীক সমৃদ্ধ সেরকমই একটি সৃষ্টি, কতটুকু সার্থক তা বিচারের ভার পাঠক ও সমালোচকদের হাতে।
বইটির প্রকাশক বাংলানামা। এটির প্রচ্ছদ করেছেন নির্ঝর নৈঃশব্দ্য।
আনন্দ অলি : যমুনা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মরানদী হুরাসাগরের শাখার পাড়ে জন্ম এবং কৈশোর ও প্রারম্ভিক যৌবনকাল অতিবাহিত করে আনন্দ অলি। সে দশ ভাইবোনের সংসারে সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় সবার আদরে বেড়ে ওঠে। সার্টিফিকেট (মূলত কৃত্রিম) নাম ওয়ালী উল্লাহ, কিন্তু জন্মস্থান-পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছে অলি নামে এবং ঢাকায় প্রায় একযুগ ধরে বন্ধুবর্গের কাছে আনন্দ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে সে।
গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের পাঠ শেষে তার বাবা তাকে ভর্তি করে দেন ধর্মীয় শিক্ষালয়ে। সেখানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম তথা এইচএসসি পাঠ শেষে সে ভর্তি হয় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সে। কিন্তু প্রথম বর্ষ শেষে সে ঢাকা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে একদম মাস্টার্স শেষ করে।
আনন্দ অলি তার দাখিল তথা এসএসসিতে অধ্যায়নরত অবস্থা থেকে তার বড় বোন হালিমা খাতুনের বি এ পাস কোর্সের মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর দেওয়া দর্শনের প্রাথমিক পাঠের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করে সে. যে পাঠের অভ্যাস এখনও রয়ে গেছে।
সে দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেয়। বর্তমানে সে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ছোটবেলা থেকে সে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু ‘আগুনফুল’ লেখার আগে যা যা লিখেছিল সব সে ধ্বংস করে ফেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *