একটি মঞ্চনাটকের শো শেষে পরিচয় আরিফ ও রিয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরিফ পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম সাংবাদিকতা আর থিয়েটার নিয়েই আছে। বাবা নেই: মা-ই তার বাবা-মা। আর রিয়া ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী। থাকে হোস্টেলে। তার বাবা যশোর কোতয়ালী থানার ওসি।
আরিফ-রিয়া: প্রথম পরিচয়ের পর কখন কীভাবে একে অপরের কাছে এসেছে তা মনে করতে পারে না। কিন্তু এটা এখন বেশ মনে আছে- দুজনের: দুজনকে ছাড়া চলবে না। তাই রিয়া তার মাকে জানিয়েছে আরিফের কথা। ব্যাস: মা জানিয়ে দিয়েছে থানার ওসি পুলিশকে। ওসিদের যেমন থানায় ডেকে পাঠানো অভ্যাস। ঠিক সে কারণে না হলেও আরিফকে এক দেখা করতে বলেছেন। রিয়া কোনোভাবেই তার পুলিশ বাবা সম্পর্কে ভীতি দূর করতে পারছে আরিফের। শেষ পর্যন্ত আরিফ যশোরে হনু শ্বশুরের সঙ্গে দেখা করতে যেতে রাজি হয়। বিপত্তি বাধে আরিফের মাকে নিয়ে। তিনি পুলিশের কাছে ছেলেকে যেতে দিতে চান না। কিন্তু কারণটাও স্পষ্ট করেন না। তারই একই কথা পুলিশ কখনো ভালো হয় না।
এরপর আরিফ যশোরে পৌঁছালেও অনাহুত এক ঘটনায় রিয়ার বাবার সামনে নিজের পরিচয় দেবার যোগ্যতা হারায়। দুজনের সম্পর্কের পারদ নামতে থাকে। আরিফের মা কেন পুলিশকে পছন্দ করেন না: রিয়ার বাব্য সৎ পুলিশ না অসৎ: তার চেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়-কয়েকটি দুর্ঘটনা ও একটি মৃত্যু।
পাঠকের উদ্দেশে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাংলানামার ভাষ্যÑ টান টান উত্তেজনাপূর্ণ এ উপন্যাসটি পড়তে শুরু করুন: আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি পড়া শেষ না করে থাকতে পারবেন না। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন তালহা মুনতাসির নাফি। এটির মূল্য ২০০ টাকা।
বইটির লেখক আসিফ মো. নজরুল সম্পর্কে যৎসামান্য
নাম- আসিফ মো. নজরুল, পিতা- মুজাফফর ইসলাম, জনন্মস্থান- সানকী ভাঙ্গা (ভূঁঞাবাড়ী) রুপাচরা, সদর লক্ষ্মীপুর। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। ৪ বোন এবং ৩ ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। লেখাপড়া শেষ করেছেন ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ। কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিকতা দিয়ে। এরপর ঢুকে পড়েন বায়িং হাউজের চাকুরীতে।
সে পর্ব শেষ করে বর্তমানে ব্যবসা করছেন পোশাক শিল্প আনুষঙ্গিক এর। এক সময় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে সাংবাদিকতা করতেন। সে সূত্রে লেখালেখির অভ্যাসটা মজ্জাগত। তার লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ না বলা কথা’ ২০১৪ সালে এবং ২০১৯ সালে প্রকাশ পায় গল্পগ্রন্থ ‘শেষ বিকেলের হাসি’।
সাংবাদিকতা চলা কালীন সময়ে থিয়েটারের সাথে যুক্ত হন। মঞ্চের জন্য তার লেখা নাটক ২টি এবং নির্দেশিত নাটক ৩টি। এছাড়াও টেলিভিশের জন্য লিখেছেন ১০টি’রও অধিক নাটক। শখের বশত মডেলও হয়েছেন ৮টি বিজ্ঞাপন চিত্রের। তবে করোনা কালীন সময়ে সব কিছু বাদ দিয়ে ব্যবসা এবং লেখালেখি নিয়ে সময় পার করছেন।
জনাব আসিফ বাংলাদেশ কালচারাল রিপোটার্স এসোসিয়েশন, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, টেলিভিশন প্রেগ্রাম প্রডিউসার এসোসিয়েশন, জাতীয় কবিতা পরিষদ, প্রিয় বাংলাদেশ, অঙ্গীকার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘ, আপন ঘর (লক্ষীপুর) সহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন। কবি এবং নাট্যকার হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পেলেও উপন্যাসিক হিসেবে এটাই তার প্রথম প্রয়াস।