নিখাদ প্রেমের গল্প নিয়ে রিহাব মাহমুদের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘মনের টান’

বাংলানামার বই স্লাইড

নব্বই দশকের গ্রামীণ পটভূমিতে গড়ে ওঠা এক চিরন্তন প্রেমের গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক ও নাট্যকার রিহাব মাহমুদের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘মনের টান’। বর্তমান মোবাইল ও ইন্টারনেটের যুগের ডিজিটাল প্রেমকাহিনীর ভিড়ে পাঠককে প্রযুক্তিপূর্ব স্মৃতিকাতর এক প্রেমের আবহ দিতেই রচিত হয়েছে গ্রন্থটি। চমৎকার এই বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন হায়দার আহমেদ।

উপন্যাসের পটভূমি ও কাহিনী সংক্ষেপ
‘মনের টান’ উপন্যাসের মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ‘অন্তর’-এর শৈশবের প্রেমকে ঘিরে। সামাজিক স্তরভেদ পেরিয়ে অন্তর এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের লাজুক ও সরল কিশোরীর প্রেমে পড়ে। বাহ্যিক রূপের চেয়ে কিশোরীটির ব্যাকুলতা ও স্বভাব অন্তরের মনে গভীর রেখাপাত করে। নব্বইয়ের দশকের কঠোর সামাজিক বাধা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং নানা অনিশ্চয়তাকে উপেক্ষা করে অন্তর তার ভালোবাসাকে জয় করার সাহসী পথ বেছে নেয়। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও নিজের সামাজিক ও নৈতিক আদর্শে অবিচল থেকে ভালোবাসাকে কীভাবে প্রাধান্য দেওয়া যায়, তা-ই উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

লেখক পরিচিতি
উপন্যাসের লেখক রিহাব মাহমুদ ১৯৭৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব ও শিক্ষাজীবন কেটেছে মূলত কক্সবাজার ও ঢাকায়। ২০০০ সালে অধুনালুপ্ত ‘আজকের কাগজ’ পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়। বর্তমানে তিনি একটি জাতীয় দৈনিকে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদপত্রের পাশাপাশি নাট্যাঙ্গন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০৬ সালে প্রচারিত ‘অনুভবে ভালবাসা’ নাটকের মাধ্যমে নাট্যকার হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তিনি অসংখ্য একক ও ধারাবাহিক নাটক রচনা করেছেন। ২০০৭ সালে প্রচারিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ওপর তাঁর বিশেষ নাটক ‘আমার নাম নজরুল’ ব্যাপক সমাদৃত হয়। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘উড়োচিঠি’, ‘২৪ ঘণ্টা’, ‘আশ্রয়’, ‘হানিমুন কটেজ’, ‘অদ্বিতীয়া’, ‘কারেকশন’, ‘চোখ’ ও ‘ভাইরাল জামাল’।

‘মনের টান’ লেখক রিহাব মাহমুদের দ্বিতীয় উপন্যাস। ২০১১ সালের একুশে বইমেলায় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘১০ই এপ্রিল’ প্রকাশিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশিত তাঁর এই নতুন বইটি বর্তমান ডিজিটাল প্রজন্মের পাঠকদের অতীতের আবেগময় প্রেম ও গভীর মানবিক সম্পর্কের অনুভূতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *