সত্যিকার ভালোবাসা মেলে কী

বইকথা স্পেশাল

কৈশোরে ‘জা পল সাত্র’ হতে চেয়েছিল রাহাত। সাত্রের মতো প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে যা সঠিক বলে মনে করেছে সেও তাই করেছে। জা পল সাত্র বিয়ে করেননি। লিভটুগেদার করেছেন বিখ্যাত ফরাসী নারীবাদী লেখিকা সিমন দ্য বুভেয়ারের সাথে। রাহাতও তাই চেয়েছিল। লেখিকা টুম্পা রায়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা যখন চূড়ান্ত তখন পালকির সাথে ওর বিয়ে হয়ে গেল।

রাহাত আর কোনোদিন টুম্পার সামনে দাঁড়াতে পারেনি। টুম্পার কোনো লেখা আর কোনোদিন কখনও পড়েনি। লজ্জায়। একটা ছবিকে ইরেজার দিয়ে যেভাবে ক্রমাগত মুছে মুছে বিলীন করা যায়- রাহাত সেইভাবে প্রতিদিন টুম্পার ছবি বড় কষ্ট করে মন থেকে মুছে ফেলেছে । অথচ এখন এই মুহূর্তে মিথিলা তার মগজের ভেতর ডালপালা মেলেছে। কিন্তু সত্যি কি রাহাতের মনের মধ্যে মিথিলা? নাকি টুম্পা? নাকি কোনো একদিন ঝুম বৃষ্টির রাতে পালকি’র সাথে রাহাত সত্যিকার ভালোবাসা আবিষ্কার করতে পেরেছিল? বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। বাংলানামা প্রকাশিত বইটির মুদ্রিত মূল্য ১৩০ টাকা।

মোস্তফা সোহেল : হাতে গোনা কজন সেরা গদ্যকারের মধ্যে মোস্তফা সোহেল অন্যতম। তার গদ্যে প্রেম, প্রকৃতি ও নারী নিবিষ্ট শব্দচয়নে মুখর। তার লেখায় কখনো শহরের শূন্যতা, রাত্রির সঙ্গীত, অন্ধকারের পোট্রেট অথবা ম্যাচৈতন্যের শীষধ্বনি- আবার কখনো ইতিবাচক সম্ভাবনা আর আগামী দিনের স্বপ্নবিলাস পাঠককে নিয়ে যেতে পারে এক মুগ্ধ ভুবনে। লেখকের জন্য ১২ জানুয়ারি যশোর শহরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর।
ডেনমার্কের ওডেন্স এর নরডিক এগ্রিকালচার একাডেমি থেকে ফেলোশিপ পেয়েছেন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে। ভ্রমণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বহু দেশ। ছিলেন মানবাধিকারের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক।
দৈনিক প্রথম আলোর বন্ধুসভা থেকে গল্প লেখালেখি শুরু। তার আগেও একেবারে স্কুলজীবনে যশোরের দৈনিক ঠিকানায় লিখেছেন নিয়মিত। এরপর ঢাকায় দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক দেশ, আজকের কাগজ, সাপ্তাহিক চিত্রবাংলা, যায় যায় দিন-এ নিয়মিত নানা বিষয়ে লিখেছেন। ১৯৯৯ সালে ‘হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেব’, ২০১০ সালে শিলালিপি প্রকাশনী থেকে ‘নিঃসঙ্গ টারমিনাল’ ও ২০১৮ সালে বাংলানামা থেকে প্রকাশিত হয় তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সাদা মেঘে ওড়াই মৌনতা’ এছাড়া ২০১১ সালে পলল প্রকাশনী থেকে তার উপন্যাস ‘তুমি আমায় প্রথম ছুঁয়েছিলে’ ও ‘ভালোবাসার এক রূপালি রাত’, ২০১২ সালে জনান্তিক থেকে ‘আনন্দবাড়ি’ ও ‘বুনো জ্যোৎস্নায়’ প্রকাশিত হয়। বিজয় প্রকাশ থেকে ২০১৩ সালে ‘মুখোশ’, ২০১৪ সালে ‘নেতা’ ও ২০১৫ সালে সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস ‘ভালোবাসা ও একটি জলফড়িং’ প্রকাশিত হয়। বিজয় প্রকাশ থেকে ২০১৭ তে প্রকাশিত হয় উপন্যাস ‘বধূ কোন আলো’ ও গল্পগ্রন্থ ‘ফুল পাখি ও জোৎস্নার গল্প’।
২০১৮ সালে বাংলানামা থেকে প্রকাশিত হয় উপন্যাস ‘আমি কান পেতে রই’ ও ‘একদিন ঝুম বৃষ্টিতে’। ২০১২ ও ২০১৩ সালে উপন্যাসের জন্য তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ২০২০ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *