পেশায় চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনীতির বিস্তৃত আঙিনায় নিজেকে যুক্ত করেছেন হেদায়েতুল ইসলাম বাদল। তবে রাজনীতিকে জীবনের মূল ব্রত হিসেবে বেছে নিলেও শৈশব থেকে লালিত কবিতা রচনার চর্চা ও অনুরাগকে কখনো স্তব্ধ হতে দেননি তিনি। বৃহত্তর ঢাকা জেলার মুন্সীগঞ্জ মহকুমার টংগীবাড়ী থানার ঐতিহ্যবাহী সোনারং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৩ সালের ২৯ নভেম্বর (১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৭০ বঙ্গাব্দ; শুক্লাপক্ষ ত্রয়োদশী, শুক্রবার প্রথম প্রহর) তাঁর জন্ম।
শিক্ষা জীবনে তিনি সোনারং মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি), ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) এবং শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সফলভাবে এমবিবিএস পাস করেন।
হেদায়েতুল ইসলাম বাদলের সাহিত্যচর্চার সূচনা ঘটেছিল শৈশবেই। ১৯৭২ সালে ঢাকার নবাবপুর গভর্মেন্ট হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে তিনি জীবনের প্রথম কবিতাটি রচনা করেন, যার শিরোনাম ছিল ‘স্বাগতম’। সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রথম কবিতার পাণ্ডুলিপি কিংবা চরণাবলি স্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গেলেও থেমে থাকেনি তাঁর সাহিত্যসাধনা। সেই থেকে অনবরত চলছে তাঁর কাব্যচর্চা—লিখে যাওয়া, কিছু হারিয়ে ফেলা, ফেলে দেওয়া কিংবা ভুলে যাওয়া অসংখ্য কবিতার ছন্দে তিনি রচনা করে চলেছেন তাঁর পথচলা।
কবির জীবনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’। এই গ্রন্থের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ‘মধুরেণ’ কবিতাটি, যা ২০২০ সালের ১১ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডিতে বসে রচিত। কবিতাটিতে ঋতু বদলের মতো জীবনের সংকট ও অতিমারির দিন পেরিয়ে পরম সুস্থতার এক সকালে ফিরে আসার আশাবাদ ফুটে উঠেছে। এতে মৃত্যুর সংবাদের অবসান, ভোরের আলোয় লেকের পাড়ে পাখির ডাক ও জাতীয় সংগীতের সুর, শিশুদের পিটি ক্লাসের কলকাকলি এবং ব্যস্ত শহরের নিয়মতান্ত্রিক জীবনের ছন্দে ফেরার এক গভীর আকুতি ব্যক্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে ভালোবাসার প্রতীক ‘দেবযানী’র হাতে নিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’ তুলে দেওয়ার মানবিক ও নস্টালজিক মুহূর্ত তুলে ধরার মধ্য দিয়ে কবিতাটি এক অনন্য মাত্রা লাভ করেছে।