চাঁদে না জানি জমে কতশত গল্প

বাংলানামার বই স্পেশাল

নিল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন চাঁদের বুকে পা রেখে ইতিহাস গড়েছিলেন। চাঁদের মাটিতে তারা হেঁটেছেন, ছবি তুলেছেন, সেরেছেন বৈজ্ঞানিক গবেষণাও। কিন্তু চাঁদে কি তারা ঘুমাতে পেরেছিলেন? চাঁদে মানুষের পায়ের প্রথম ছাপ কি সংরক্ষণ করা উচিত? চন্দ্র সফরে যাওয়ার কিছুদিন আগে প্রায় যমের দুয়ারে পা রেখেছিলেন আর্মস্ট্রং। কী ঘটেছিল তখন তার জীবনে?
প্রথম রুশ নভোচারী কুকুর লাইকা, যে মানুষকে দিশা দেখিয়েছিল মহাকাশ অভিযাত্রার, সেই প্রাণীটিও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল লাইকার কপালে? কীভাবে ফ্যাক্টরির সামান্য কর্মী থেকে মহাকাশজয়ী কন্যা হয়ে উঠলেন ভ্যালেনতিনা তেরেসকোভা?
চাঁদে এখনও নারীর পা পড়েনি; তবে পড়বে, কিন্তু কবে? সেসব গল্পই বেশ জমিয়ে করা হয়েছে ‘আধো চাঁদ’ বইতে। বাড়তি পাওনা হলো, এ গ্রন্থের লেখককে দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ইতিহাসবিদ আসিফ আজম সিদ্দিকীর সাক্ষাৎকার।
আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদের একটি দিক আমরা দেখতে পাই। অদেখাই থেকে যায় অপর পাশ। সেই আধখানি চাঁদে না জানি জমে কতশত গল্প। বাকি চাঁদের গল্প লেখক অন্য কোনোদিন, অন্য কোনো বইতে শোনাবেন, নিশ্চয়ই। এভাবেই জাহাঙ্গীর সুরের লেখা আধো চাঁদ বইয়ের মুখবন্ধ লিখেছেন শর্মিলা সিনড্রেলা। যিনিও লেখক বিজ্ঞানীদের প্রেম (ভাষাচিত্র, ২০১২) গ্রন্থের। সিনড্রেলা সাংবাদিকও বটে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত। বাংলানামা প্রকাশিত বইটির মুদ্রিত মূল্য ২০০ টাকা।

জাহাঙ্গীর সুর : জীবন ও জগৎকে বোঝার বন্ধু পথ আছে। বিজ্ঞান হলো। তেমনি একটা রাস্তা। সেই পথের অতিনগণ্য এক পথিকমাত্র জাহাঙ্গীর সুব। গ্রামভিত্তিক বিজ্ঞান সংগঠন আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের সহউদ্যোক্তা। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষালয়গুলোয় বিজ্ঞানমেলা ও বিজ্ঞানবক্তৃতা করে বেড়ান। কৃতিত্ব স্বরূপ পেয়েছেন বিপিএইচআর ইয়াং অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড (২০১৮)।
লেখকের আটটি বিজ্ঞানগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলো- ‘আধো চাঁদ’ (বাংলানামা, ২০২০), নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীদের আত্মস্মৃতির অনুবাদগ্রন্থ ‘যখন আমি ছোটো ছিলাম’ (বাংলাপ্রকাশ, ২০২০), বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের আত্মস্মৃতির অনুবাদ ‘আমার এই ছোট্ট জীবন’ (দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৯), ‘শূন্য মহাশূন্য বলি যারে’ (দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৮), ‘মনের ব্যাকরণ’ (দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৭), ‘বিজ্ঞানের বিস্ময়কর গল্প’ (বিজ্ঞান একাডেমি, ২০১৪: সহলেখক মরিয়ম মিজান রত্না), ‘ফিজিক্স’ (বিজ্ঞান একাডেমি, ২০১৩) ও ‘নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীদের শৈশবগাথা’ (অঙ্কুর প্রকাশনী, ২০১২)।
সাংবাদিকতা পেশায় আছেন ২০০৮ সাল থেকে। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি) থেকে জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজে স্নাতক। বইটি প্রকাশের সময় লেখক স্নাতকোত্তর করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন স্টাডিজে। মা শওকতারা বেগম, বাবা রবিউল ইসলাম। লেখক ও সাংবাদিক শর্মিলা সিনড্রেলার স্বামী। তাদের এক সন্তান, প্রজ্ঞান নক্ষত্র। সুরের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে। জন্ম ভারতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *