ছেলেবেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছে নিয়ে বাড়তে থাকা মৌনতা নামের মেয়েটি তার ইচ্ছে পূরণের মানসে পড়া-লেখার পাশাপাশি ছোটোখাটো একটা ফাস্টফুডের দোকান খুলে স্বপ্নের পথে হাঁটতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার পথে প্রান্ত ওকে দেখে মুগ্ধ হয়। কফি খাওয়ার ছলে মৌনতার সাথে পরিচিত হয়। প্রান্তকে কফি খাইয়ে শুরু হওয়া দিনটিতে ব্যবসা বাড়তে থাকে- বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায়, ওর আগমনটা আশির্বাদ ধরে নিয়ে বিশ্বাসের পুঁজিতে ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে চলে মৌনতা। সর্বোপরি প্রান্তর হালকা মেজাজের কথা কলা, অসম্ভব অনুমান ক্ষমতা, নির্ভরশীলতা, মানুষের দুঃখে কেঁদে ওঠার মতো সহানুভূতিশীল হৃদয়ের ব্যাপকতা মৌনতাকে আকৃষ্ট করে, এই আকৃষ্টতা ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নিতে শুরু করে। একসময় দুজনেই নিশ্চিত হয়। সিদ্ধান্তে পৌঁছে তারা পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে।
মৌনতার একাগ্রতা, বিশ্বাস ও দুই জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যবসাটা দাঁড়িয়ে যায়। যা খেয়ালি প্রান্তর মনে দ্বন্দ্ব তৈরি করে। প্রতিষ্ঠার শিখরে উঠতে থাকা মৌনতার পাশে বেকার প্রান্ত নিজেকে বেমানান ভেবে ওর কাছ থেকে পালাতে চায়। যদিও প্রান্তর ভাবনার বাইরের অবস্থান ভেতরের অবস্থানের বিপরীত, তবুও প্রান্ত অনঢ়। দৃঢ় প্রত্যয়ী মৌনতা ওর জীবনের প্লানিং কিছুটা পাল্টায়। প্রান্তর মনে বাড়তে থাকা হীনমন্যতা ও খেয়ালিপনা ওর মন থেকে দূর করতে পরিকল্পিত সময়ে বেশ কিছুটা আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। ভালেবাসার বিনি সুতোর বাঁধন মজবুত করতে হুট করে প্রান্তকে বেঁধে ফেলে ধর্মের শেকলে।
মো. আবুল কালাম আজাদ স্বপন : মো. আবুল কালাম আজাদ স্বপন, পড়াশুনা ও দীর্ঘ চাকরি জীবনের প্রায় পুরোটাই ঢাকায় হলেও জন্ম চট্টগ্রামে। লেখকের পৈত্রিক বাড়ী নরসিংদী জেলার মনোহরদীর চর-সাগরদী গ্রামে। তিনি বিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বিকম অনার্স ও এমকম ডিগ্রি লাভ করেন। বাবা মহিউদ্দিন আহমেদও লেখালেখিতে জড়িত ছিলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই লেখালেখির জগতে প্রবেশ।