মেঘনার পাড়ে স্বপ্ন ও বাস্তবতার লড়াই

বইকথা স্লাইড

মেঘনা নদীর অবিরত ভাঙন আর জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম ছায়া বহু মানুষের জীবনকে এক অনিশ্চিত দিগন্তে ঠেলে দিয়েছে। লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি উপজেলার সুজন গ্রামের চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। মেঘনার নোনা জলের স্রোত যেমন প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, তেমনই কেড়ে নিচ্ছে হাজারো মানুষের নিশ্চিন্ত জীবন। এমনই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন মাহতাব মিয়া।

জমির মায়া ছেড়ে গ্যারেজে আশ্রয়
একসময় যাঁর বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি ছিল, প্রকৃতির গ্রাসে আজ তিনি নিঃস্ব। নদীভাঙনে জমিগুলো মেঘনার গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার পর মাহতাব মিয়ার একমাত্র ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর ছোট গ্যারেজটি। অথচ একসময় এই গ্যারেজে মাসে এক দিনও তাঁর আসার প্রয়োজন পড়ত না; কর্মচারীরা যা আয় এনে দিত, তাতেই চলত সংসার।
আজ দুই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলে দিন কাটে তাঁর। মনে একটাই স্বপ্ন—ছেলেরা কবে বড় হবে, কবে একটা বড় চাকরির সন্ধানে শহরে পাড়ি জমাবে। দুশ্চিন্তা আর হতাশাহীন একটা সাধারণ জীবনের আকুল আকাঙ্ক্ষা মাহতাব মিয়ার, কিন্তু প্রতিনিয়ত যেন অনিশ্চয়তার সাগরেই ডুবে যাচ্ছেন তিনি।

জীবনের গল্পকার: তরুণ লেখক জিহাদ খান
উপকূলীয় জীবনের এমন দুঃখ-দুর্দশা, মেঘনার ভাঙন আর মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকে নিজের রচনায় তুলে ধরছেন তরুণ সাহিত্যিক জিহাদ খান।
জন্ম ও পরিচয়: জিহাদ খান ২০০১ সালের ৯ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালুচরের সুজন গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মো. আনোয়ার হোসেন এবং মা নূর-নাহার বেগম।
লেখালিখির প্রেক্ষাপট: মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেড়ে ওঠার কারণে নদীর কান্না ও উপকূলের মানুষের লড়াই খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।
সাহিত্যিক ভাবনা: জিহাদ খান তাঁর লেখায় কোনো রূপকথা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনের আসল গল্প শোনান। কখনো নদীভাঙনের অশ্রুজল, আবার কখনো জীবনের নোনাজলের সংগ্রাম—সবটাই ফুটে ওঠে তাঁর প্রাঞ্জল সৃষ্টিতে।

রহনুমা নূরের প্রচ্ছদে জিহাদ খানের তুলে ধরা এই গল্পগুলো কেবল মাহতাব মিয়ার একার নয়, এটি মেঘনা পাড়ের হাজারো মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি। একদিকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে বেঁচে থাকার অদম্য সংগ্রাম—এই নিয়েই কেটে যায় তাঁদের প্রতিটি দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *