কেন কমফোর্ট জোন সবার পছন্দ

দেবদুলাল মুন্নাপ্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ এএম
মুক্তকথা স্পেশাল স্লাইড
আপনি বা আমি, এমনভাবে বেড়ে উঠেছি যে আমরা সবসময়ই একটা কমফোর্ট জোনে থাকতে পছন্দ করি।
আমার এক বন্ধু একদিন মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করল। বলল, উবারে বা অন্য কারও গাড়িতে থাকলে জ্যাম তৈরি করা রিকশার ভিড় তার অসহ্য লাগে। আবার নিজে যখন রিক্সার যাত্রী হিসাবে থাকে তখন পেছন থেকে হর্ন বাজানো গাড়িওয়ালাদের মনে মনে গালি দেয়, ‘নবাবী মারাও’। মানে কম্ফোর্ট জোন।
যে কথা শুনলে ভাল লাগে, যা দেখলে মন ভাল হয়, মানে পছন্দমতো সব যেন চাই। কিন্তু আমার পছন্দমতো সবাই হবে কেন? একেকজন তো একেকভাবে বেড়ে উঠেছে। চলবে ও তার পছন্দ মতো।
আর মুলত এখান থেকে তৈরি হয় কগনিটিভ বায়াস বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পক্ষপাত। একটি মানসিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি তার নিজের বিশ্বাস ও ধারণার সাথে মিলে যাওয়া তথ্যকে গ্রহণ করে এবং তার বিপরীত তথ্যকে এড়িয়ে যায়। এটি আরোহী যুক্তির একটি প্রক্রিয়াগত ভুল, যা মানুষের আবেগ, পূর্ব ধারণা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব দ্বারা পরিচালিত হয়। ব্যক্তি সাধারণত সেসব তথ্য গ্রহণ করেন, যা তাদের মতামতকে সঠিক প্রমাণ করে এবং এর বিপরীত যুক্তিগুলোকে এড়িয়ে যান।
আমাদের আবেগ, পূর্ব থেকে নিয়ে আসা বিশ্বাস, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ধর্ম, ছোটবেলা থেকে শিখে আসা সংস্কার, এইসবই গ্রহণ বর্জনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। রনজিত গুহ এসব নিয়ে বিস্তর লেখেছেন।
কিন্তু বিশ ও ত্রিশের দশকের বেশিরভাগ সময় জুড়ে মার্শেল প্রুস্ত একজন প্রতিভাবান কিন্তু অসফল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি তাঁর সময় নষ্ট করতেন ‘প্লেজারস অ্যান্ড ডেজ’ (১৮৯৬) বইতে সংকলিত গদ্য-কবিতামূলক ছোট ছোট গল্প এবং অবশেষে পরিত্যক্ত উপন্যাস ‘জঁ সাঁতেয়িল’ (১৮৯৬-১৯০০)-এর পেছনে। এই উপন্যাসটি মরণোত্তর এবং সম্ভবত প্রুস্তের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই প্রকাশিত হয়েছিল।
তো এই ‘প্লেজারস অ্যান্ড ডেজ’ বইতে একটা জায়গায় প্রুস্ত এক পেইন্টারের কথা জানাচ্ছেন, যে ডিপ্রেশনে ভুগত, সে মনে করত লাইফ ইজ আর্ট। কামলা খাটা তার কাজ না। একমাত্র ছবি আকা তার কাজ। কিন্তু সে কাজ না করলে খাবে কি, ছবি আকবে কিভাবে, আনন্দ পাবে কিভাবে?
আনন্দ কোথায় থাকে? উপনিষদ ও কার্ল মার্ক্স বলছেন, আনন্দ থাকে ভাতে। আচ্ছা ধরা গেলো ভাতের ব্যবস্থা হলো। কিন্তু নিজের মতো সব কি পায় কোনো মানুষ সবকিছু?
না পায় না। সেখানে শিক্ষিত শ্রেণী ও রাজনীতিবিদেরা থিংক ট্যাংকের মাধ্যমে যা করে সেটা হলো, ‘জ্ঞানতাত্ত্বিক বিপর্যাস’ বা ‘এপিস্টেমোলজিক্যাল ভায়োলেন্স’। কেন ? প্রুস্ত সেই বইয়ে বলছেন, মানুষ কখনোই তার রুচি,ইচ্ছার বিরুদ্ধে আনন্দহীন জায়গায় অবস্থান করতে পারে না। মানে হইল দুইটা। এখান থেকেই শুরু রাজনীতির ও সব মানুষের মিলন ইউটোপীয়।
#ফেসবুক থেকে নেওয়া

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি * চিহ্নিত।