এক বিষণ্ণ কবির ক্রন্দন

বাংলানামার বই স্পেশাল

বিরহ বৃক্ষ-একটি নাম, যা শুধু একটি বইকে নির্দেশ করে না; এটি এক গভীর বেদনার প্রতিচ্ছবি। এ বই কোনো সাধারণ কবিতার সংকলন নয়, বরং এক বিষণ্ণ কবির ক্রন্দন, এক দীর্ঘশ্বাসের অরণ্য।
পৃথিবীর অমোঘ নিয়মে বাবা চলে গেছেন, রেখে গেছেন এক শূন্যতা, এক অদৃশ্য অথচ ভারী উপস্থিতি। সেই শূন্যতার মাঝেই জন্ম নিয়েছে বিরহ বৃক্ষ-যার শিকড় গাঁথা স্মৃতির মাটিতে, আর শাখাগুলো ছুঁয়ে আছে অতৃপ্ত অভিমান।
চার বছর ধরে একাকী এক কবি কলমের কালি দিয়ে এ বৃক্ষকে জলসিঞ্চন করেছেন। প্রতিটি শব্দ তার কান্নার ফোঁটা, প্রতিটি পঙক্তি তার হারানোর যন্ত্রণায় দগ্ধ এক শাখা। এ এক শোকের উদ্যান, যেখানে পাতাগুলো ঝরে যায় নিঃশব্দে, যেখানে বাতাস বয়ে আনে বাবার স্মৃতির গন্ধ।
এই বই কেবল কবিতার সমষ্টি নয়-এ এক সন্তানের আর্তনাদ, এক হারিয়ে যাওয়া আশ্রয়ের প্রতি অবিরাম আহ্বান। বিরহ বৃক্ষ তাই শুধু একটি নাম নয়, এটি এক অমর অনুভূতি, যা সময়ের সাথে বিবর্ণ হবে না, বরং শেকড়ে শেকড়ে আঁকড়ে থাকবে চিরকাল। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলানামা। এটির মুদ্রিত মূল্য ২২০ টাকা।
মেহেদী হাসান সম্পর্কিত কথামালা
মেহেদি হাসানের অস্তিত্ব মিশে আছে প্রকৃতির নিভৃত কোণে, শব্দের জাল বুনে তৈরি করা গল্প-কবিতার আবেশে, উপন্যাসের গভীর বিস্তারে। মেহেদি বিরহের শূন্যতাকে যেমন ছুঁয়ে দেখেন, বাস্তবতার নির্মমতায় নিজেকে খুঁজে ফেরেন।
কবি মেহেদি হাসানের শেকড় গাঁথা সেই সীমান্তের মাটিতে, যেখানে দেশের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে সোনামসজিদ স্থলবন্দর। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিস্তব্ধ বিকেল, রাজশাহীর অপরূপ রোদ্দুর-সবকিছুই কবির সত্তার একেকটি অধ্যায়।
কবি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি অনুভূতির এক চলমান প্রতিচ্ছবি। শব্দেরা তার আশ্রয়, আর বাস্তবতার আঁচড়ে গড়ে ওঠে কবির আত্মজিজ্ঞাসা।
পৃথিবীর আলো দেখা দিন, মাস, সালটি ছিল-১০ ডিসেম্বর ২০০৪।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *