সোনারোদের নাম হুমায়ুন ফরীদি

বাংলানামা প্রতিবেদকপ্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
মুক্তকথা স্লাইড

কোন তরঙ্গে ভাসালে বন্ধু অভিমানের নাও?

আজি এ বসন্তে ভালোবাসা ভুলে বিদায় রাগিনী বাজাও?
যতোদূরে যাও, তবুও রয়েছে-শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়!
ফাল্গুনের প্রথম দিনে নিজেকে কুয়াশার নীরব চাদরে ঢেকে একা একা চলে গেলেন হুমায়ুন ফরীদি। চন্দ্রগ্রস্থ এই মানুষটি কোন এক জোসনার রাতে না ফেরার দেশে চলে যেতে চেয়েছিলেন। চন্দ্রগ্রস্থ নাটকের শেষ দৃশ্যে হুমায়ুন ফরীদির সেই সংলাপ কী ভোলা যায়? ‘এ ওয়ান্ডার ফুল নাইট টু ডাই’!
সব স্বপ্ন প্রকৃতি গ্রহণ করে না। যিনি আলো হয়ে এসেছিলেন তিনি আলোতেই বিদায় নেবেন, সেটাই স্বাভাবিক।সকালের পবিত্র আলো চুরি করে নিয়ে গেছে আমাদের সোনারোদ।
এই সোনারোদের নাম হুমায়ুন ফরীদি।

সাড়ে তিন হাত মাটি
বিটিভির গত তিন যুগের সেরা সব নাটকগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তম ডায়ালগ আমি তো জমি কিনি না, কিনি পানি। অদ্ভুত সেই ডায়ালগ ডেলিভারি। চোখ ধাধানো অভিনয়। শুধু বয়সটা নিয়ে সংশয় অনেকের। বিটিভির পর্দায় তখন তাকে দেখে মনে হয়েছিল বয়স পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ( সেলিম আল দীন রচিত ধারাবাহিক নাটক-ভাঙ্গনের শব্দ শুনি) আসলে কী তাই? তখন ফরীদির বয়স ৩১ -৩২। মানুষ সেরাজ তালুকদার রূপী হুমায়ুন ফরীদিকে ঠিকই খুঁজে বের করলো। আরে এতো সেই মানুষ যিনি যৌতুক প্রথাকে বিদায় জানানোর জন্য বকুল ফুলের মালা বিনিময় করে তার প্রিয়তমা কে বিয়ে করেছিলেন। পত্রিকায় সেই ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও উৎসাহ দিয়ে ছিলেন। তারপর?
কী কারণে সেই বকুল ফুলের মালা শুকিয়ে গিয়েছিল এতোদিন পরে এসে সে সব আর মনে করে লাভ নেই। তবে ফরীদি নামের ফুলটা কখনোই শুকোবে না। কারও ফুলদানীতেও শোভা পাবে না। আলোকিত ফুল আর নক্ষত্রের জন্ম কিংবা নক্ষত্রের না ফেরার দেশে যাত্রা দুটোই বন্দী থাকে হৃদয়ের সেলুলয়েডে।
সাড়ে তিন হাত মাটির সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই!

মানুষের পায়ের নীচে
চান্দু চোরার নেগেটিভ পজেটিভ। অসাধারণ নাটক। চোরের চরিত্রে এভাবে কেউ অভিনয় করতে পারে নাটক না দেখলে বা দেখালে সেটা বোঝানো যাবে না। একদিন যখন নাটকে গ্রামের এক গায়েনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। সেই নাটকে নীরবে ভালোবেসে ছিলেন যাকে সে বড় হয়ে দেশের বড় শিল্পী হয়ে যান। বহুদিন পর গ্রামে ফিরলে তার সাথে দেখা হয় ফরীদির। নাটকটিতে আছে অসাধারণ একটা গান যা সারা দেশে সুপার ডুপার বাম্পার হিট হয়ে যায়। দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল/রেল লাইন বহে সমান্তরাল। নাটকটি দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। চোখের পানি ধরে রাখা যায় না কোথাও আলো নেই নাটকটি দেখলে। মন্টু আর টুনি নামের দুই পাত্র পাত্রী ভালোবেসে ঘর বাধেন। টুনির ক্যান্সার হয়। ফুল নিয়ে যখন উপস্থিত মন্টু তখন আর টুনি নেই। মনভাঙ্গা কষ্টের সেই নাটকের টুনিকেই পরবর্তীকালে বিয়ে করেছিলেন। বকুল ফুল শুকানোর মতো সেদিকে আজ নাইবা গেলাম। দূরবীন দিয়ে দেখুন নাটকের পাগল চরিত্রে কিংবা বাবার কলম কোথায় নাটকের ফরীদি কে দেখলে আফসোসই বাড়বে। আফসোস বাড়বে আগামী, দহন, একাত্তরের যিশু ছবিগুলো দেখলে। এমনকি চরম বাজারী ছবির প্রচলিত মন্দ মানুষ (ভিলেন) চরিত্রে ফরীদিকে দেখলেও অফিসোস টা চরমে উঠবে। আক্ষেপ করে বলতে চাইবে মন- ইস এই মানুষটি যদি বাংলার মাটিতে না জন্মে পাশের দেশ কিংবা অ্যামেরিকায় জন্মাতেন তবে পৃথিবীর সেরা বিশ জন অভিনেতার মধ্যে একজন হয়ে উঠতেন। কথাটা একবর্ণ মিথ্যে নয়। অতিরঞ্জিতও নয়।
নায়ক হলে নায়কোচিত বা নাদুস নুদুস চেহারা থাকতে হবে। আকর্ষনীয় ফিগার থাকতে হবে। বাহারী চুল থাকতে হবে। ভিলেন হলেও দশাসই চেহারা ও ফিগার থাকতে হবে। প্রচলিত এই ধারণাকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা দিয়ে সবাই কে মাত করে দিতে পেরেছিলেন একজনই। হুমায়ুন ফরীদি।

যাত্রা দিয়ে শুরু হয়েছিল তার অভিনয় জীবন। ৭৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা থিয়েটারে। যারা তার অভিনীত মঞ্চ নাটকগুলো দেখেছেন তাদের সবাই এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে মঞ্চেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। মঞ্চে তার অভিনীত জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, মুনতাসির ফ্যান্টাসি, কেরামতমঙ্গল, কীত্তন খোলা, হাত হুদাই ও ধূর্ত উই নাটকগুলো হয়তো ভবিষ্যতেও মঞ্চায়িত হবে কিন্তু সেখানে থাকবেন না হুমায়ুন ফরীদি। থাকবেন না টিভি নাটকেও। কিন্তু সংশপ্তক নাটকের কান কাটা রমজান, সেরাজ তালুকদার কিংবা পাথর সময় নাটকের বিডি (ব্ল্যাক ডায়মন্ড) চরিত্রের হুমায়ুন ফরীদিকে মনে পড়বে সবার।
যাত্রা, মঞ্চ টিভি নাটক আর সিনেমা এই চার মাধ্যমের কাজেই জনপ্রিয়তম হতে পারাটা শুধু ফরীদির পক্ষেই সম্ভব ছিল। জানি না এমন একজন অভিনেতা পেতে জাতিকে আরও কতো দশক প্রতীক্ষায় থাকতে হবে। বিটিভির একদিন যখন নাটকের শেষ দৃশ্যে যখন তার ফাঁসি হবে তার আগে একটা ডায়ালগ ছিল এমন-আমার মৃত্যুর পরে লাশটা গাঙের জলে ভাসাইয়া দিও। আর সেই গানটা গাইও। নয়নের জল শুকাইয়া বিচ্ছেদের অনল/এই অন্তরের অন্তর জ্বালা বাড়াইলো কেবল/হইলো নাতো সুখের মিলন/হইলো না শুক সারির দর্শন/এমনই কপাল……./রেল লাইন বহে সমান্তরাল…..
কপাল সবার থাকে না। প্রকৃতির এই নির্মমতা সহ্য করা সম্ভব না। তবুও মেনে নিতে হয়। কিংবদন্তী একজন অভিনেতা মরে পরে থাকেন টয়লেটে। ঘন্টা খানিক পর জানা যায় তিনি নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। জীবনের শেষ চার বছরে তার পাশে ছিল কয়জন? নাকি যত উজ্জ্বল নক্ষত্র ততো বেশী একা? যত উজ্জ্বল কীর্তিতে তার চেয়ে ঢের বেশী অভিমান? সে কারণেই কিনা জানি না, ফরীদি ভাই বার বার বলতেন সুনীলের কবিতাটা মানে আছে?
তুই একবার এসে দেখে যা নিখিলেশ
কী রকম ভাবে বেঁচে আছি আমি!
—-একি কংকালের পাশা খেলা—
আমি মানুষের পায়ের নীচে কুকুর হয়ে বসে থাকি।
তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখব বলে!!
জানি না কোন মানুষের কোন ভেতরের কুকুর তাকে আত্মহননের পথে টেনে নিয়ে গেল!

খেলাটুকু তুলে নিলে
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কে স্মরণ করেছেন তিনি বহুবার। জীবনের শেষ চার বছরে তিনি ক্রমশ: একা হচ্ছিলেন। তবুও ২০১১ সালের ২৯ মে তার ষাট বছর পূর্তিতে ঢাকার ছায়ানট ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের নাম বালাই ষাট। তিনি সেদিন স্টেজে বসেছিলেন। তাকে নিয়ে কথা বলছিলেন সবাই। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আফজাল হোসেন, এটি এম শামসুজ্জামান, ইমদাদুল হক মিলন, আনু মোহাম্মদ সহ আরো অনেকেই। ছিলেন তার পরবর্তী প্রজন্মের অভিনেতা অভিনেত্রী পরিচালক সহ আরো অনেকে। তিনি সেদিন বলেছিলেন খুব সামান্যই…..‘অভিনয় ছাড়া কিছুই শিখি নি, করিনি, করার চেষ্টাও করিনি। আর তাই (আবারও সুনীল) শুধু এইটুকু বলি- যদি নির্বাসন দাও ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোয়াব, বিষ পান করে মরে যাব…’
–হ্যা। তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনই বেছে নিয়েছিলেন। তার মত একজন বিশ্বমাপের অভিনেতাকে আমরা ব্যবহার করতে পারি নি, হয়তো ভালোও বাসতে পারি নি। বড় বেশী অভিমানে নিজেকে নিঃশেষ করেছেন, আত্মহননের পথে হেটেছেন একা!
ক্রিকেট কে বড় বেশী ভালোবাসতেন। মাঠে যেয়ে খেলা দেখতেন। একবার ডেকে বলেছিলেন ইদানীং গান লিখছে মুর্খরা। পারলে ক্রিকেট নিয়ে একটা গান লিখিস। গানটা প্রীতম (গায়ক) কে দিস। ও গাইবে। গানটা না শুনেই চলে গেলেন ফরীদি ভাই?
খেলাটুকু তুলে নিলে বিধাতার কোন বাজী
থাকে না তো জীবনের হাতে
মহীনের ঘোড়াগুলো কোনো রেসে জিতে গেলে
ঘাস খায় জোসনার রাতে
হেরে গেলে কেউ আর থাকে না তাদের সাথে
ভালোবাসা তুমি থেক
সোনার ছেলেরা খেলবে যখন তাদের সাহসে রেখ
সোনার ছেলেরা লড়বে যখন তাদের তালিতে রেখ
আমার পক্ষে না থাক বন্ধু দেশের পক্ষে থেক!

ভালেবাসা মরে যায় মুগ্ধতা মরে না
সময় শ্রেষ্ঠ বিচারক। সময়ের হাত ধরে যে যার কাজে থিতু হয়ে যাব। পরিচালক আশরাফুল আলম রিপন সেট সাজিয়ে ফরীদি ভাই এর জন্য বসে থাকবেন না। ফরীদি ভাই তাকে ফাঁসিয়ে দেবেন, কথা দিয়েও সেটে আসবেন না জেনেও অপেক্ষা করতো রিপন। হানিফ সংকেত কিংবা বুলুু ভাই তাকে জোর করে নিয়ে যেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করবেন না। অভিনেতা জাহিদ হোসেন শোভন চীৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে আর জানাবেন না ফরীদি ভাই নেই! ছুটে যাব না তার বাসায়। দেখবো না হাজারো মানুষের ভীড়। তবু মনে পড়বে কীত্তন খোলার ছায়ারঞ্জন কে। ধূর্ত উই এর উই কে। সংশপ্তক এর রমজান কিংবা একাত্তরের যিশুর গির্জার ফাদার কে। ক্রমাগত যে যার মত হারিয়ে যাব কাজের ভেতর। তবু হয়তো সাজু খাদেম একদিন অভিনয় করে দেখাবে কীভাবে ফরীদি ভাই কথা বলতেন, অভিনয় করতেন, গান গাইতেন…আমরা হা হা করে হাসবো। তারপর?
তারপর হয়তো মানিক ভাইকে মনে পড়বে। ফরীদি ভাই এর বন্ধু মানিক ভাই। মানিক ভাই গর্ব করে বলতেন আমি আর ফরীদি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেছি। ওর গর্বের জায়গাটা ছিল মুক্তিযুদ্ধ আর অভিনয়। আমি ওকে ছাড়তে পারি নি কখনো। তাই তো সুইডেনে থেকেও আমার ঘরের সবচেয়ে বড় রূমটার নাম ফরীদি। রূমের মধ্যে সবকিছু সাজানোই থাকে। শুধু ফরীদি এলেই সেটা খোলা হয়…
আমাদের বুকের ভেতর যে খোলা জায়গাটা, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে দেশপ্রেমের সোনারোদ খেলা করে, সেই খোলা জায়গার ভেতর সবচেয়ে ভালো রূমটা খুলে রাখব ফরীদি ভাই এর জন্য। তিনি আসবেন। অভিনয় করবেন। আমরা দেখবো, আমরা মুগ্ধ হবো। তবে যতো বড় অভিমান নিয়ে তিনি নিঃশব্দ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন তার বহুগুণ বেশী মন ভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে জানতে চাইবো- ফরীদি ভাই আপনার শুভাকাঙ্খীদের শত কোটি অনুরোধ কেন আপনি রাখলেন না? জীবনে আরেকটু শৃংখলাবদ্ধ হলে কী আপনাকে আমরা আরো কিছুদিন বেশী কাছে পেতাম না? বুকের ভেতরের সেই খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে কী আমরা আবারো জানতে চাইবো-
ভালোবাসা মরে যায় মুগ্ধতা মরে না
মুগ্ধ প্রেমিক তাই ভালোবাসা করে না?
ভালোবাসার জন্য এমন আত্মহনন দেবদাসের ভেতরেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। হায় জীবনের প্রতি মুগ্ধতাও তার ভেতরে জন্মালো না!
পুনশ্চ : একটা মানুষের সেন্স অব হিউমার কতোটা তীক্ষ হতে পারে ফরীদি ভাই এর সাথে না মিশলে সেটা বোঝা যাবে না। তিনি খুব অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বসেও তিনি সিগারেট খাচ্ছেন। মন খারাপ করে তাকে বললাম ভাইয়া প্লিজ পাগলামীটা এবারে অন্তত বাদ দেন। সিগারেট খেয়েন না। তিনি সিগারেট খেলেন্। তারপর বললেন তোকে একটা জোক বলি।
এক লোকের মন খুব খারাপ। তার বউ এর সাথে যখন তখন ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে। এরই মধ্যে ঐ লোক গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল। প্রচন্ড জ্যাম। সে সময়ে এক ভিক্ষুক এসে ভিক্ষা চাইলো। লোকটি মানা করার পরেও ভিক্ষুক বললো দেন না স্যার। দিলে সুখে থাকবেন। এরপর তাদের কথোপকথন-
-সিগারেট টানিস?
-কী যে বলেন না।
-তাহলে মদ খাস?
-না স্যার।
-তাহলে নিশ্চয় মেয়ে মানুষ নিয়ে উল্টাপাল্টা করিস?
-আল্লার কসম না স্যার।
-তাহলে গাড়িতে ওঠ।
-কেন? ভিক্ষা না দিলে না দেন। কিন্তু আপনার গাড়িতে উঠব কেন?
-তোকে নিয়ে আমার বউকে দেখাব আর তাকে বলবো -দেখ দেখ যারা এসব করেনা তাদের জীবন তোর মতো ভয়াবহ হয়!
এই হচ্ছেন হুমায়ুন ফরীদি। যিনি হাসতেন, হাসাতেন। জানিনা এখন কাকে ডেকে জোক বলবেন!

লেখক : আহসান কবির
(হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুর তিন চার দিন পর একটি জাতীয় দৈনিকে লেখাটি ছাপা হয়েছিল, শিরোনাম ছিল-ভালোবাসা মরে যায়, মুগ্ধতা মরে না! )

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি * চিহ্নিত।