এইটুকু একটা দেশ, অথচ কতোই না বড়। কতো নদী, খাল-বিল, হাওর-পাহাড়, বনানী; সর্বোপরি বিশ্বের বৃহত্তম নোনাজলের জঙ্গল- সুন্দরবন; দক্ষিণ-পশ্চিমে অতন্দ্র প্রহরীর মতো বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে চলেছে দেশটাকে। আর এই ছোট্ট দেশেই যে আরেকটি সুন্দরবন হাজারো বছর ধরে দাঁড়িয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বে, যার নাম চকরিয়া সুন্দরবন: স্থানীয়রা যাকে বলে প্যারাবন-সেই কথাটি বহুদিন পরে আবারো মনে করিয়ে দিলেন তরুণ অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাইফুল মাসুম।
এবং তিনি বললেন ‘ছিল’। চকরিয়া সুন্দরবন ছিল কিন্তু এখন নাই। কয়েক বছর আগে, ১৯৭৮ সালেও ছিল; এখনো ছিটেফোঁটা চিহ্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে; কিন্তু বুক পেতে ঘূর্ণিঝড় ঠেকিয়ে দেওয়ার সেই দ্বিতীয় সুন্দরবনটি আর নেই। কেন নেই? কোথায় গেছে! কী হয়েছে!! ৪৫ হাজার বর্গ একর আয়তনের আস্ত একটা সুন্দরবন মাত্র ৪৫ বছরে ‘নাই’ হয়ে গেল কেমন করে!
সাংবাদিক সাইফুল মাসুমের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে এইসব তীব্র প্রশ্নের জবাব। শুধু তাই নয়, মাসুম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন সেই ‘গায়েব হয়ে যাওয়া’ সুন্দরবনটির বর্তমানের পরিস্থিতি; লিখেছেন ‘বন খেল সরকার, চিংড়ি বারো ভূতে’ শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনটি সম্প্রতি ছাপা হয়েছে জনপ্রিয় দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’য়। সেই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাইফুল মাসুম অর্জন করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি)র সম্মানসূচক ‘দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ, ২০২৪’।
এই মূল্যবান সংবাদ প্রতিবেদনটি পত্রিকার পাতার সীমিত পরিসর থেকে তুলে এনে রিপোর্টার সাইফুল মাসুম আরেকটু কলেবর বাড়িয়ে বই আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন এবং অনুসন্ধিৎসু পাঠকের চিরকালীন খোরাকে রূপ দিয়েছেন। চকরিয়ার চিংড়ি ঘেরের রিপোর্টের সঙ্গে এই বইতে যুক্ত হয়েছে মৎস্যখাত ও বনাঞ্চল নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন। একজন রিপোর্টারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ না জানিয়ে পারা যায় না। আর শিরোনাম দেখে বইটি না পড়েও থাকা যায় না। এবং পড়ার পরে হতবাক না হয়ে পারা যায় না যে- একটি দেশের সরকার ও প্রশাসনের লোকজন কীভাবে পারে এমন কাণ্ড করতে! বইটি ও লেখক সাংবাদিক সাইফুল মাসুমের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।

