কেমন ছিল জীবনানন্দ দাশ ও তাঁর স্ত্রী লাবণ্যর সম্পর্ক? ট্রাম দুর্ঘটনায় কবির রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে লাবণ্যর গোপন প্রভাব ও প্ররোচনা ছিল, এমন কথাও চাউর আছে। ঘনিষ্ঠজনের ভাষ্য: জীবনানন্দর বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না। এমনকি নিজের বাসাতেই কবি থাকতেন বহিরাগতের মতো। কবি বিরাম মুখোপাধ্যায়কে জীবনানন্দ একদিন হঠাৎ জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘যদি স্ত্রী আপনার আমন্ত্রণে ঘনিষ্ঠ হবার প্রস্তাবে সাড়া না দেয় কী করবেন? কী করা উচিত?’ কবির মৃত্যুর পর তাঁর গোপন ও প্রকাশ্য অনুরাগী পাঠক-গবেষকদের অনেকে সন্দেহ ও সমালোচনার তির ছোড়েন-লাবণ্য কবির জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিলেন। কবিতাচর্চা ব্যাহত তো করেছেনই, মানসিক শান্তিও নষ্ট করেছেন।
তাঁদের মতে লাবণ্য এক স্বার্থপর ও আত্মসুখপরায়ণ মহিলা। নিজেকে নিয়েই সব সময় ব্যস্ত থেকেছেন। কিন্তু বাস্তবে কেমন ছিল জীবনানন্দ-লাবণ্যর সম্পর্ক ও সংসার? তাঁদের ২৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের পুরোটাই কি ভরা ছিল নীল বিষে? কী ছিল লাবণ্যর চাওয়া-পাওয়া স্বামী জীবনানন্দর কাছে? কবির সম্পর্কে কী ছিল লাবণ্যর অভিযোগ, ক্ষোভ কিংবা হতাশার কারণ? জীবনানন্দর কবিখ্যাতির নিচে পড়ে সবই চাপা পড়েছে। ‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসে সেই চাপাপড়া গল্পে অনুসন্ধানী আলো ফেলেছেন মাসউদ আহমাদ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইটি প্রকাশ করেছে দেশের নামী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমা। ১১২ পৃষ্ঠার বইটির মুদ্রিত মূল্য ৩২০ টাকা।
মাসউদ আহমাদ সম্পর্কে
জন্ম ৫ জুন ১৯৮৫, রাজশাহীর পুঠিয়ায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। লেখালেখি করছেন অনেক দিন। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন নামী পত্রিকায় তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়েছে।
কলকাতার দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে দীর্ঘ উপন্যাস ‘কাঞ্চনফুলের কবি’। তিনি বাংলাদেশের প্রথম লেখক, যাঁর উপন্যাস দেশ-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ‘দূর পৃথিবীর গন্ধে’ গল্পগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংক-কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২২। কাঞ্চনফুলের কবি উপন্যাসের জন্য ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা সংস্থা থেকে সাহিত্যে ‘এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি পুরস্কার ২০২৩’ পেয়েছেন।
দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল দৈনিক কালের কণ্ঠর সম্পাদকীয় বিভাগ।
বর্তমানে সিটি ব্যাংকে কর্মরত।

