দক্ষিণী নায়িকা সামান্থা রুথ প্রভু ও পরিচালক রাজ নিদিমোরুর প্রেম-বিয়ে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার বিষয় হচ্ছে কেন নায়িকারা বেছে বেছে পরিচালকের প্রেমে পড়েন, কেনইবা পরিচালককে বিয়ে করেন! ভক্ত-অনুরাগীদের একটাই প্রশ্ন—সেলুলয়েডের জগতে সুদর্শন সব নায়ক থাকতে কেন নায়িকারা বেছে বেছে এ জগতের নেপথ্য কারিগরকে জীবনসঙ্গী করেন? তাদের প্রেমে পড়েন। অবশ্য অনেক নায়িকা জীবনসঙ্গী বা প্রেমসঙ্গী হিসেবে নায়ককেও বেছে নেন। তবে আজকের আলাপ নেপথ্যের নায়কের সঙ্গে নায়িকার রসায়ন নিয়ে। এমন ঘটনার মানসিক ও পারিপার্শিক কারণগুলো বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন দক্ষিণী সিনেমার পরিচালক অশোক তেজা।
শুটিং স্পটের বোঝাপড়া ও ঘনিষ্ঠতা কীভাবে বাড়ে? এ প্রশ্নের উত্তরে এ পরিচালকের ব্যাখ্যা বেশ মনমতো হবে অনেকের। তিনি বলেন, ‘সিনেমা পরিচালনা ও নির্মাণ দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়া। যেখানে নায়িকা ও পরিচালকের মধ্যে এক ধরনের হৃদ্যতা-আন্তরিকতা দরকার হয় সেটিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার স্বার্থেই।
তামান্না ভাটিয়াকে নিয়ে ‘ওডেলা টু’ নির্মাণ করা অশোক তেজা বলেন, ‘শুটিং ইউনিটে প্রেমের সূচনা হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকে। পরিচালক ও নায়িকা-অভিনয়শিল্পী প্রতিদিনই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। চরিত্রের গেটআপ-লুক, বডি-ল্যাঙ্গুয়েজ; বৈশিষ্ট্য—এ সবকিছুই তাদেরদিনের পর দিন ভাবতে হয়, যৌথভাবে আলোচনা করতে হয়। চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার স্বার্থেই পেশাগত কারণে পরস্পরকে পরস্পরের সঙ্গে থাকতে হয়।’
অভিজ্ঞ এ পরিচালক বলেন, ‘এই যে পেশাগত ঘনিষ্ঠতা, কাজের সময় বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে বন্ধুত্বে পরিণত হয়। তারা যখন একে অপরকে বন্ধু ভাবতে শুরু করেন, তখন ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দও নিজেদের মধ্যে শেয়ার করেন। সময় আরো গড়িয়ে গেলে একে অপরকে আস্থায় নেন, পরস্পরকে পরস্পরের উপযোগী ভাবেন। এই ভাবনা পরিণতি পায়, বিয়ে করেন তারা।’
সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকা ও পরিচালকের প্রেম বা বিয়ে নতুন কোনো ঘটনা নয়। ঢালিউড থেকে টালিউড, হলিউড থেকে বলিউড, এমনকি দক্ষিণী সিনেমাতেও এ প্রেম-বিয়ে নানাভাবে ঘুরেফিরে, নানান মাত্রায় আলোচিত হয়েছে। ‘বাহুবলি’ খ্যাত রম্যা কৃষ্ণার সঙ্গে পরিচালক কৃষ্ণা ভামসি কিংবা বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের সঙ্গে পরিচালক আদিত্য ধরও আছেন এই তালিকায়। লম্বা একটা তালিকা প্রকাশ করা যাবে এসব ঘটনার।
কী বলে প্রেমের বিজ্ঞান? নায়িকা আর পরিচালক, তা যে-ই হোক, দিনশেষে তারাও তো রক্ত-মাংসের মানুষ। প্রেমের বৈজ্ঞানিক একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন নৃবিজ্ঞানী হেলেন ফিশার। তার ব্যাখ্যায় প্রেমে পড়ার স্তর তিনটি।
১. প্রেমের প্রাথমিক ধাপ কামপ্রবণতা, যা টেস্টোস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রিত হয় হরমোনের মাধ্যমে।
২. মস্তিষ্কে ডোপামিন (আনন্দ), অ্যাড্রিনালিন ও নরএপিনেফ্রিন হরমোনের নিঃসরণ ঘটলে একে অপরের প্রতি আকর্ষিত হন। এটি এক ধরনের নেশা যেন! দর্শনমাত্র চেহারায় পরিবর্তন, গাল লাল হওয়া, হৃদয়ের স্পন্দন দ্রুত হওয়া মূলত অ্যাড্রিনালিনের কীর্তি!
৩. অক্সিটোসিন হরমোনের প্রভাব একে অপরকে গভীর ও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে। তখন তারা দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন ও পরিকল্পনা ফাঁদে। সূচিত হয় সংসার ধর্মের ভিত্তি।
শুটিংস্পটে-ইউনিটে দীর্ঘদিন কাটানো, একে অপরের সঙ্গে আবেগ আদান-প্রদান, ঘনিষ্ঠতা-অন্তরঙ্গতা, শেয়ারিং—এ সবকিছুর পরিণতি পরিচালকের সেলুলয়েডের ফ্রেমে বন্দি হতে হতে নায়িকা একসময় তার হৃদয়খাঁচায়ও বন্দি হয়ে পড়েন।
https://shorturl.fm/Qx0Tr