12:57 PM, 17 Aug 2020
ভ্রূণটি যুদ্ধের

মিলটন রহমান

ঢালু এবং কিছুটা উঁচু-নীচু পুকুর পাড়ে মার্বেলটি ছেড়ে দেয় সে। কয়েকবার ডানে-বায়ে গড়াগড়ি করে মধ্যের খাদমতো স্থানে থেমে যায় মার্বেল। ডুবে থাকে কাদা-পানিতে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

খাদে পানি-কাদা কিংবা বিষ্টা থাকলেও ধাবমান গতিতে শেষ তলানিতেই গিয়ে থামবে ভারী বস্তু। এই খেলা প্রায়ই খেলে টাকি। নিজের নাম নিয়েও বহু প্রশ্ন তার। কেউ শোনামাত্রই, নাম কেন টাকি হলো? এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে কিঞ্চিত দেরি করে না। পুকুর কিংবা খাড়িতে একটি মাছ পাওয়া যায় টাকি মাছ নামে। শুনেছে ছোটবেলায় সে দেখতে ছিলো ওই টাকি মাছের মতো, তাই তাকে টাকিমাছ-টাকিমাছ ডাকতে ডাকতেই নাকি নাম হয়ে যায় টাকি! তো ওই মার্বেল আর টাকি তার প্রতিদিনের ঘটনাবৃত্তান্ত। এ নিয়ে তার খেদ কিংবা ক্ষোভ কোনোটি আছে কি নেই তা বোঝারও জো নেই। মার্বেলের মতো গড়িয়ে গড়িয়েই সে চলে, টাকি মাছের মতো স্রোত ঠেলে ঠেলে উজানের দিকে যেতে চায়। তার যাত্রা কোথা থেকে হয়েছিলো আর কোথায় গিয়ে শেষ হবে তাও জানা নেই। তবে প্রতিদিনই অনির্ণেয় এক খাদের তলানিতে গিয়ে আটকে থাকে তার সব। বিশেষত তার পরিচয়। একাত্তরের কোনো এক সময় একটি ভ্রূণ কোথায়  ব্রক্ষ্মাণ্ডে নাড়া দেয় তাতো তার জানার কথা নয়। জন্মের পর মার্বেলের মতো কোনো নির্দিষ্ট খাদও পায় নি সে। সে খাদের খোঁজে টাকি মাছের মতো পানি ঠেলে কেবল ডাঙ্গায় উঠতে চেয়েছে। ডাঙ্গাতো তার নেই। কিভাবে মিলবে!

[লেখাটি বাংলানামার অণুগল্প সংখ্যায় প্রকাশিত]