06:13 PM, 25 May 2019
স্ক্রল দেখে লাফাবেন, না একটু সময় নেবেন?

কবীর আলমগীর

২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়। পান্থপথে পরিবর্তন ডটকমের কার্যালয়। পরিবর্তন ডটকমের সোনালি দিন ছিল। 

এর বছর দুই পর আরেক নতুন অনলাইন পোর্টাল দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম। নতুন এই পোর্টালটিও অল্প সময়ে গণমাধ্যম জগতে সুনাম আনে। হাউজ দুটিতেই রিপোর্টাররা বেশ সক্রিয় ছিলেন। সব বিটেই রিপোর্টার ছিলেন, বেতনও নিয়মিত ছিল। রিপোর্টাররা চেষ্টা করতেন কোথা থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না।

তখন মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুই এক লাইন তথ্য নিয়ে সবার আগে দেওয়ার চেষ্টা থাকত পোর্টালে। ওই দুই লাইন নিউজ আকারে ছেড়ে দেওয়া ছিল আমাদের নিজস্ব স্ক্রল বা ব্রেকিং নিউজ। এই ব্রেকিং নিউজ কোনো কোনো সময় টেলিভিশন চ্যানেলের ব্রেকিংয়েরও আগে আমরা দিতে পারতাম।

অনেক সময় আমাদের অফিসে দুই একটি টেলিভিশন চ্যানেল ফোন দিয়ে বসত। তারা অনুমতি চাইত, ওই দুই লাইন স্ক্রল হিসেবে তাদের টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যবহার করতে। এটি সম্ভব হয়েছিল পোর্টালের বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে। তারা মনে করত এই পোর্টালের সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ।

টেলিভিশনের কোনো কোনো রিপোর্টার ওই সময়ে পূর্ণাঙ্গ নিউজ পেলেও তা তাকে দেওয়ার অনুরোধ জানাতেন। আমিও অনেক রিপোর্টারকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়েছি। সত্যি সত্যি দেখতাম কিছুক্ষণ পর স্ক্রল ভাসছে চোখের সামনে। আনন্দ জাগত, কোনো কোনো স্ক্রল বা ব্রেকিং আমরা টেলিভিশনের আগে দিতে পেরেছি।

তার মানে অনলাইন পোর্টালগুলো চাইলে সবার আগে সর্বশেষ খবর দিতে পারে। এ জন্য দরকার নিউজম্যান। যাদের তৃষ্ণা হবে তথ্য সংগ্রহের এবং তা ব্রেকিং তথ্য। সবার আগে ব্রেকিং তথ্য। অনলাইন পোর্টালগুলো চাইলে টেলিভিশনের স্ক্রলের আগেও সেই তথ্য দিতে পারে। এর জন্য শক্ত ব্যবস্থাপনা থাকা চায়, সব জায়গাতেই নিজস্ব কর্মী থাকা চায়।

এখন আমার মনে হয়, কে কার আগে স্ক্রল দেবে এ প্রতিযোগিতা থেকে অনলাইন পোর্টালগুলো সরে এসেছে। এখন অনলাইন সাংবাদিকদের চোখ থাকে টেলিভিশনের স্ক্রলের দিকে। স্ক্রল আসার পর তাদের ঘুম ভাঙে, রিপোর্টারের টনক নড়ে, ডেস্কের চেতনা জাগে। আত্ম সমালোচনার জায়গা থেকে বলছি, স্ক্রল নিয়ে কাজ করতে করতে একটা অভিজ্ঞতা দাঁড়িয়েছে যে, টেলিভিশন চ্যানেলে যে স্ক্রলগুলো দেওয়া হয় সেটি হুবহু সবসময় অনুকরণ-অনুসরণ করা বিপজ্জনক। ওই স্ক্রল একটা তথ্যের যোগান কিংবা নিউজ করার প্রণোদনা হতে পারে। এরপর আপনি সেটি দেখে যাচাই-বাছাই করবেন, রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর নিউজ করবেন বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে।

ধরা যাক, টেলিভিশনের স্ক্রল: শ্রমিকদের বেতন ৩০ মের মধ্যে ও বোনাস ২ জুনের মধ্যে দেওয়ার আহ্বান শ্রম মন্ত্রণালয়ের। (লক্ষ করুন: স্ক্রলে আগে বেতন, পরে বোনাস)

যদি কোনো অনলাইন পোর্টাল এই স্ক্রল দেখে নিউজ করে তাহলে ভুল তথ্য দিয়ে নিউজ করা হবে। কিংবা একটু কনফিউশন জাগা স্বাভাবিক। কারণ কমনসেন্স বলছে, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগে বোনাস দেয়, এর কয়দিন পরে দেয় বেতন। কিংবা বোনাস-বেতন একসঙ্গে দেয়।

আধাঘণ্টা অপেক্ষা করুন। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার নিউজ পাঠালেন: শ্রমিকদের বোনাস ৩০ মের মধ্যে ও বেতন ২ জুনের মধ্যে দেওয়ার আহ্বান শ্রম মন্ত্রণালয়ের। (লক্ষ করুন: নিউজে আগে বোনাস ও পরে বেতন)। এবার ঠিক আছে।

আর ভুল ইনফরমেশন দিয়ে নিউজ করলেন। পরে প্যানেলে ঢুকে হেডলাইন পরিবর্তন করে দিলেন। এরপর ফেসবুকে ডিবাগ করে দিলেন। ভাবলেন, যোগ্য কাজ করেছেন।

একবারও ভেবে দেখেছেন, নিজের ইজ্জতটা কোন জায়গায় রাখলেন? স্ক্রল দেখে লাফাবেন, না যাচাই-বাছাই করে একটু সময় নিবেন?