05:35 PM, 10 Mar 2018
 মা বলতেন, যা তোর মন চায় তাই করবি

বাংলানামা ডেস্ক : পারভীন নাসিমা নাহার পুতুল একটি নাম, একটি ইতিহাস! ক্রীড়ামোদীরা ঠিকই তাকে মনে রেখেছেন, হয়ত অন্যরা সেভাবে তাকে মনে রাখেন নি!

তারপরও ইতিহাস তো মুছে ফেলা যায় না! তাই ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে ১৯৮৩ সালের একটি ঘটনা। সেবছর বাংলাদেশের হয়ে ভারতের ইডেন গার্ডেনসে ক্রিকেট খেলেছিলেন এই পুতুল! স্থানীয় একটি দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলে ছিলেন তিনি।
এরপর ৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ক্রিকেট; বাংলাদেশের বিভিন্ন নারী দলে ছিলেন সক্রিয়।
এখনকার দিন আর তখনকার দিন- আকাশ-পাতাল পার্থক্য! রীতিমতো সংগ্রাম করে খেলাধুলায় নিজেকে জড়িয়েছিলেন পুতুল।

'আমাদের বেড়ে ওঠায় প্রতিকূলতা ছিল না বললে একেবারেই ভুল হবে। নারী স্বাধীনতা যে প্রয়োজন সেটা তখনই আমরা বুঝতাম, তাই সোচ্চার ছিলাম। আমরা ছাত্র রাজনীতি করতাম খেলাধুলা করতাম।' এভাবেই বলেন পারভীন পুতুল। তবে পারিবারিকভাবে তিনি খেলোয়াড়ি জীবনে কোনো বাঁধা পাননি।
পুতুল বলেন, বাবা সংস্কৃতিমনা ছিলেন। তিনি চাইতেন আমি নাচ, গান শিখি। আমার আগ্রহ ছিল খেলায়। মা সবসময় বলতেন, যেটা তোর মন চায় সেটাই করবি।
পারিবারিক বাঁধা না থাকলেও সমাজের মানুষের সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে তাকে, নারীদেরকে। কিন্তু তিনি মনে করেন, এ পরিস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েই উদ্যোগী হলে চেষ্টা করলে সফল সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, মন্তব্য তো আসবেই, মন্তব্য প্রয়োজন। জীবনে সফল হতে হলে এসব শুনেই হতে হবে। সমালোচনা, তির্যক কথা মানুষের মধ্যে জয়ের তাগিদ দেয়। এখন যারা নানাভাবে হেয় হচ্ছেন কটু কথা শুনছেন, তাদের উচিৎ দমে না গিয়ে আরো পরিশ্রম করা।
পারভীন পুতুল ক্রিকেটারই নন, হকিও খেলেছেন সাফল্যের সঙ্গে। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত হকি খেলেছেন দাপটের সঙ্গে।
দেশের ক্রীড়াজগতে হ্যান্ডবল, রাগবি ফেডারেশনের সঙ্গে পুতুল জড়িত ছিলেন। একজন ক্রীড়াপ্রেমীর পাশাপাশি পুতুল ক্রীড়া সাংবাদিকতায় জড়িত ছিলেন। তার ভাষ্য, আমি যখন সাংবাদিকতায় আসি তখন বেশিরভাগই ছেলে ছিল। আমার সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া ভাল ছিল। নব্বইয়ের দশকে তো খুব বেশি মেয়ে সাংবাদিকতায় আসতেন না।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের তারকা খেলোয়ার সালমা, খাদিজা, জেসিকার মতো তারকাদের খুঁজে বের করতে পারভীন পুতুল বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
ঋণ : বিবিসি বাংলা