10:16 PM, 20 Apr 2018
আদর্শ লেখকের কী গুণ থাকা জরুরি

বাংলানামা ডেস্ক
কবি-গল্পকার হামীম কামরুল হকের দেয়া শুক্রবারের এক ফেসবকু স্ট্যাটাস থেকে পাওয়া দুটি ছবি (হাতের লেখা কাগজের ফটো) থেকে জানা গেছে আদর্শ লেখক হবার কিছু গুণাগুণ।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা (কাগজের নিচে তারই নাম লেখা) লেখকের আদর্শ কী  হওয়া উচিত সে বর্ণনা। তার লেখাটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল :

অখণ্ড মনোযোগ না দিলে লেখা ভাল হয় না। ফরমাসী বা পরের মন-যোগানো লেখা ভাল না।

লিখিবার সময় পাঠক খুশি হইবে কি না একথা ভাবিবে না। নিজের যাহা ভাল বোধ হইবে তাহাই লিখিবে।

style দেখাইবার চেষ্টা করিবেনা, মনের ভাবটিকে শ্রেষ্ঠ অভিব্যক্তি দিবার চেষ্টা করিবে। তাহা হইলেই style আসিয়া পড়িবে। অকারণে একটি শব্দও ব্যবহার করিবেনা।

রস সৃষ্টিই সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য, রসবর্জিত সত্যও সাহিত্য নয়। যাঁহারা কেবল সত্য উদ্ঘাটনে ব্যস্ত তাঁহারা ঋষি হইতে পারেন কিন্ত সাহিত্যিক নহেন।

জোর করিয়া কোনো রস- যথা হাস্য বা করুণ ফুটাইবার চেষ্টা করিবে না। বিষয় বস্তুতে যদি সে রসের উপাদান থাকে, রস আপনি ফুটিবে, বিষয় বস্তুর মধ্যেই মনকে নিবিষ্ট রাখিবে।

Digression অতিশয় বিপদজনক; মাঝে মাঝে প্রয়োজন হইলে যতদূর সম্ভব সংক্ষেপে করিবে।

প্রকৃতির বর্ণনায় কোথাও দশপংক্তির বেশি করিবে না। যাহা সকলেই চোখে দেখিতে পায় তাহার দীর্ঘ বর্ণনা ক্লান্তিকর।

বর্ণনীয় বিষয়ের চিত্রটি স্পষ্টভাবে মনের পটে আঁকা না থাকলে বর্ণনা অস্পষ্ট হইবে। প্রত্যেক দৃশ্যটি Visualize করিবে।

যে চরিত্রটি আঁকিবে তাহাকে উলঙ্গ করিয়া দেখিয়া লইবে। হয়তো সে-চরিত্র সম্বন্ধে সবকথা লেখার প্রয়োজন নাই, তবু তাহাকে সমগ্রভাবে দেখিয়া লওয়া চাই।

যে বিষয়ে লিখিবে সে-বিষয়টি ভাল করিয়া পড়িয়া লইবে- আন্দাজে যাহোক একটা লিখিয়া দিবে না। পাঠকের বুদ্ধি জ্ঞান ও রসবোধের উপর শ্রদ্ধা রাখিবে। অন্যথা ঠকিতে হইবে।

সাময়িক রচনা (topical) পুস্তকাকারে বাহির করিবে না। বিরুদ্ধ সমালোচনায় অধীর হইবে না। সাহিত্যক্ষেত্রে কাহারও সহিত মতভেদ হইলে প্রতিদ্বন্দ্বীর বুদ্ধি-বিবেচনা সম্বন্ধে কখনো কটাক্ষপাত করিবেনা। পারতপক্ষে উত্তর দিবে না। যদি নিতান্তই উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হয়, ধীর ও সংযতভাবে দিবে। বঙ্কিমচন্দ্রকে আদর্শ বলিয়া জানিবে। তিনি ভিন্ন বাংলায় অন্য আদর্শ নাই।